৮ জানুয়ারি : আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনা! ভেনেজুয়েলার তেল পাচারের অভিযোগে রাশিয়ার পতাকাধারী তেলের ট্যাঙ্কার ‘মেরিনেরা’-কে উত্তর আটলান্টিক থেকে সফলভাবে আটক করেছে আমেরিকা। কয়েক সপ্তাহের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান এবং রাশিয়ার সাবমেরিনের প্রচ্ছন্ন হুমকি উপেক্ষা করে মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী (US Coast Guard) ও সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানে এই পুরো ‘দখলদারী প্রক্রিয়া’টি সম্পন্ন হয়।
মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড (US European Command) জানিয়েছে, জাহাজটি মূলত ‘বেলা-১’ নামে নিবন্ধিত ছিল। মার্কিন ব্লকেড এড়াতে জাহাজটি বারবার নিবন্ধিত নাম এবং পতাকা পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়। গত মাসে ভেনেজুয়েলা উপকূলে প্রথমবার জাহাজটিকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও, সেটি মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনীকে এড়িয়ে আটলান্টিকে পালিয়ে যায়।
এই অভিযানটি শুধুমাত্র একটি জাহাজ দখল নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, অভিযান চলাকালীন জাহাজটির আশেপাশে রাশিয়ার একটি সাবমেরিন সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল। আইসল্যান্ডের কাছাকাছি এই এলাকায় মার্কিন ও রুশ বাহিনীর এমন অবস্থান বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এই জাহাজ দখলের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে গেছে।
এ দিকে, কয়েক দিন আগেই মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের অভিযানে কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদুরো এখন আমেরিকায় মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছেন। বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, “এই তেল বাজার দরে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ আমার (প্রশাসনের) নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
সচরাচর রাশিয়ার পতাকা লাগানো বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হস্তক্ষেপ বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়ানোর যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, এটি তারই অংশ। ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।



