বরাক তরঙ্গ, ৮ মার্চ : বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নরসিং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, কবি ও অনুবাদক তথা সরকারি সাহিত্য পেনশনপ্রাপ্ত অশোক বর্মার উদ্যোগে তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতার স্মৃতিতে প্রবর্তিত স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার এ বছর প্রদান করা হয়েছে হাইলাকান্দির দুই বিশিষ্ট সাহিত্যিককে।
এবারের “ঠাকুর প্রসাদ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬” লাভ করেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ কাশ্যপ এবং “চন্দ্রাবতী স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬” পেয়েছেন কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও বিশিষ্ট সমাজ-সংস্কৃতিকর্মী সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়।
রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় হরকিশোর হাইস্কুলে প্রাক্তন অধ্যাপক বরুণ কুমার সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসর ও বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। শিলচরের বালার্ক প্রকাশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে কৃষ্টি সাহিত্য মঞ্চ এবং ‘সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকা পরিবার। একই সঙ্গে কৃষ্টি সাহিত্য মঞ্চের ১৮১তম এবং ‘সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকার ১০৯তম মাসিক সাহিত্য আসরও অনুষ্ঠিত হয়।
অশোক বর্মা বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করায় তাঁর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক বরুণ কুমার সিংহ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি ও অনুবাদক কল্লোল চৌধুরী এবং কবি, চিত্রনাট্যকার ও উপন্যাসিক আশুতোষ দাস।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বসন্ত ঋতু সৃষ্টির ও রঙের ঋতু। প্রকৃতি নতুন কুঁড়ির সবুজে সেজে ওঠে এবং এই ঋতু মানুষকে সৃষ্টিশীলতার আনন্দে একত্রিত করে।

পরে রফি আহমদ মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান এগিয়ে যায়। বালার্ক প্রকাশন ও স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কারের ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন আশুতোষ দাস ও কল্লোল চৌধুরী। এরপর রবীন্দ্রনাথ কাশ্যপকে “ঠাকুর প্রসাদ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬” হিসেবে উত্তরীয়, শাল, উপহার বই ও সম্মাননা পত্র প্রদান করা হয়। হিন্দিতে লেখা সম্মাননা পত্রটি পাঠ করেন রফি আহমদ মজুমদার।
অন্যদিকে সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়কে “চন্দ্রাবতী স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬” হিসেবে উত্তরীয়, শাল, উপহার বই ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন শিপ্রা শর্মা মহন্ত, শঙ্করী চক্রবর্তী, মাধবী শর্মা সহ মঞ্চাসীন অতিথিরা। বাংলায় লেখা সম্মাননা পত্রটি পাঠ করেন কবিতা দাস।
সম্মাননা প্রদানের পর সভাপতি বরুণ কুমার সিংহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, অশোক বর্মা একটি মহৎ কাজ করে চলেছেন। তিনি একজন মৃদুভাষী ও সদালাপী শিক্ষাবিদ এবং সমাজের এক মূল্যবান সম্পদ। এদিন যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন, তাঁরা উভয়েই যোগ্য ব্যক্তিত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তী পর্বে সাহিত্য আসরে স্বরচিত কবিতা, ছড়া ও কৌতুক পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ কাশ্যপ, সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়, আশুতোষ দাস, কবিতা দাস, পঞ্চতপা নাথ, শঙ্করী চক্রবর্তী, জিতেন্দ্র নাথ, কল্লোল চৌধুরী, মাধবী শর্মা, সুদীপ্তা বিশ্বাস, রফিক উদ্দিন লস্কর, রফি আহমদ মজুমদার, বিধুভূষণ দাস, শিপ্রা শর্মা মহন্ত, বরুণ কুমার সিংহসহ অন্যান্য কবিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তিলক রঞ্জন দাস ও মিঠুলাল চৌধুরী এ ধরনের সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করেন। সাংস্কৃতিক পর্বে বসন্ত ও লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন সুদীপ্তা বিশ্বাস ও পার্বতী বিশ্বাস।
শেষে একে অপরকে আবিরে রাঙিয়ে অনুষ্ঠানে বসন্তের আবহ তৈরি হয়। সবশেষে সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায় ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



