
২৬ জানুয়ারি : ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড়সড় রায় দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) প্রাক্তন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ (Habibur Rahman) তিন শীর্ষ পুলিশকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের (Death Sentence) আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে এমন কঠোর সাজা ঘোষণার ঘটনা বিরল।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সরকার পতনের আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলন দমাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। ৫ আগস্ট, যেদিন শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন, সেদিন ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে নেমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নির্দেশের প্রমাণ পায়।
আদালত এই মামলায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। সোমবার ঘোষিত রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়: ১. হাবিবুর রহমান: প্রাক্তন ডিএমপি কমিশনার। ২. সুদীপ কুমার চক্রবর্তী: প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার। ৩. শাহ আলম মুহাম্মদ আখতারুল ইসলাম: প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রমনা অঞ্চল)।
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এই তিনজন বর্তমানে ‘পলাতক’। তাঁদের অনুপস্থিতেই বিচারের যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার করে এই চরম দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের কাছে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং গ্রেপ্তারির জন্য রেড নোটিশ জারি করতে হবে।
ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আরও কয়েকজনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে। প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মুহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানার তৎকালীন একজন ইন্সপেক্টর এবং তিনজন কনস্টেবল, যাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, পুলিশের কাজ ছিল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুলিশ যেভাবে সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। হাবিবুর রহমান ঢাকার পুলিশপ্রধান হিসেবে এই দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের মুহূর্তেও যেভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা ক্ষমাহীন।



