গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংস্থা পুনগর্ঠন, সভাপতি  সিদ্ধার্থ-সম্পাদক চন্দন

বরাক তরঙ্গ, ১৫ জানুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে প্রাক্তনী সংস্থার ২০২৬–২৯ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডাঃ সিদ্ধার্থ শঙ্কর ভট্টাচার্য প্রাক্তনী সংস্থার সভাপতি, অধ্যাপক চন্দন পাল চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক এবং অধ্যাপক মৃদুল মোহন দাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হন। মঙ্গলবার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও রিটার্নিং অফিসার তাপস পাল নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘোষণা করেন এবং বিভিন্ন পদের জন্য মনোনীত সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। এরপর টেকনিক্যাল সেশন শুরু হয়। এই পর্বে সম্পাদিকা লুনা পুরকায়স্থ বিগত কার্যকালের সচিবীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন এবং কোষাধ্যক্ষ সুমিত্র ধর আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সবশেষে কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন পরিষদ গঠিত হয়। ডাঃ সিদ্ধার্থ শঙ্কর ভট্টাচার্য প্রাক্তনী সংস্থার সভাপতি, অধ্যাপক চন্দন পাল চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক এবং অধ্যাপক মৃদুল মোহন দাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনজন যুগ্ম সম্পাদক, পনেরো জন সহ-সভাপতি এবং ত্রিশ জন কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন।

এ দিন অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় ও অন্যান্য সম্মানিত বরিষ্ঠ প্রাক্তনীদের প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে। এরপর সংস্কৃত বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রী অনিশা দত্ত সরস্বতী বন্দনা পরিবেশন করেন। কলেজ সঙ্গীত পরিবেশন করেন অধ্যাপিকা ড. পৌলোমী চক্রবর্তী। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন প্রাক্তনী সুরমিতা রায় পোদ্দার। তিনি তাঁর বক্তব্যে কলেজ শিক্ষার গুরুত্ব এবং একজন মানুষের জীবনে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রী সৌরীতি আচার্য। এরপর প্রাক্তনী সংস্থার পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় তাঁর ভাষণে ভবিষ্যতে একটি প্রাক্তনী ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রাক্তনীরা যেহেতু এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তাই তাঁদের অবদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘস্থায়ী ও সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি তিনি NEP 2020-এর আলোকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাক্তনীদের সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান, যা বর্তমান শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাক্তনী সংস্থার সভাপতি সৌম্যকান্তি পুরকায়স্থ তাঁর বক্তব্যে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংস্থার বিবর্তন ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইউজিসি-র নিয়ম অনুসারে সংস্থার সংবিধানে আনা বিভিন্ন সংশোধনী নিয়েও আলোচনা করেন। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য প্রদান করেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপিকা শ্রেষ্ঠা কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *