বরাক তরঙ্গ, ১৩ ফেব্রুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় নির্মল বায়ু কর্মসূচির অন্তর্গত জাতীয় নির্মল বায়ু শিক্ষা ও যোগাযোগ বিষয়ক অ্যাডভান্স ট্রেনিং অ্যান্ড এনগেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটি আয়োজন করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাগৃহে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের স্বাগত জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান সময়ে বায়ু দূষণ শুধু ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বিশেষভাবে দিল্লির মতো মহানগরগুলিতে বায়ু দূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী দূষণের হার বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক সূচিত মিশন লাইফ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন, যা ভারত কোপ২৬ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছিল। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন মানুষকে পরিবেশ-সচেতন ও ‘প্রো-প্ল্যানেট (পি৩)’ জীবনধারা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।
এরপর আসাম দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্মকর্তা সূর্য গুপ্ত বরা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বায়ু দূষণ কী, তার প্রকারভেদ এবং প্রধান উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বায়ু গুণমান সূচকের মাধ্যমে শিলচর ও ভারতের অন্যান্য শহরের বায়ু মানের বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের মূল কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন টিম টোবাসোর প্রধান প্রশিক্ষক ও শিল্প বিশেষজ্ঞ সোনি কুমারী। তিনি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, দূষণ রোধে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ইকো-ব্রিক কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং “নির্মল বায়ু দূত” হিসেবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে টিম টোবাসোর পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা সকলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



