রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৫ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতে ভারতেও জ্বালানি সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি বা জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বহু মানুষ বাইক, গাড়ি এমনকি জারিক্যান নিয়ে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন। আতঙ্কে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ভাগাবাজার এলাকার এক পেট্রোল পাম্পে ইতিমধ্যে “তেল শেষ” সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুধু স্থানীয় পাম্পেই নয়, অনেককে পার্শ্ববর্তী মিজোরাম রাজ্যের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও তেল সংগ্রহ করতে যেতে দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহনের চাপও বেড়েছে বলে খবর।
এদিকে, কাবুগঞ্জ পেট্রোল পাম্পেও জ্বালানি ভরতে বিশাল ভিড়ের ছবি সামনে এসেছে। সকাল থেকেই সেখানে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ভারত তার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি বাজারে।
তবে সরকারি মহলের একাংশ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কোনও প্রয়োজন নেই।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গুজব বা আতঙ্কের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও অযথা আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সচেতনতা ও সংযমই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।



