২৩ মার্চ : যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের (Iran) পাশে দাঁড়াতে মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা।পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও ইজরায়েলি হামলার জেরে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপত্যকার মানুষ (Kashmir Donations)। বিশেষ করে বুদগাম এবং বারামুল্লা জেলার বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না থেকে শুরু করে গবাদি পশু পর্যন্ত দান করছেন।
কাশ্মীরের শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে (Shia community) প্রথমে এই ত্রাণ সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সংগ্রহ চালাচ্ছেন। তবে কেবল অর্থ নয়, কাশ্মীরের মহিলারা তাঁদের প্রিয় অলংকার ও মূল্যবান ঘরোয়া তামা-কাঁসার সামগ্রীও দান করছেন যুদ্ধের ক্ষত মেরামতের জন্য। এমনকি এক বিধবা মহিলা গত ২৮ বছর ধরে স্মৃতি হিসেবে আগলে রাখা তাঁর স্বামীর সোনার পদকটিও ইরানের ত্রাণ তহবিলে তুলে দিয়েছেন। যা দেখে আপ্লুত খোদ তেহরান প্রশাসন।
কাশ্মীরিদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় অভিভূত ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস। সোশ্যাল মিডিয়ায় (এক্স) ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে তারা ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ইরান দূতাবাস লিখেছে, ‘কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসা ও সংহতি ইরান কোনওদিন ভুলবে না। আপনাদের চোখের জল এবং পবিত্র আবেগ আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ সান্ত্বনা। ধন্যবাদ ভারত।’
এই মানবিক অভিযানে সামিল হয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। শিশুরা তাদের জমানো ইদের টাকা দান করেছে, আবার বুদগামের বিধায়ক মুন্তাজির মেহদি তাঁর এক মাসের বেতন এই ত্রাণে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এজাজ আহমেদের কথায়, ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অনৈতিক যুদ্ধে সাধারণ মানুষ চরম সংকটে। এই পরিস্থিতিতে সাহায্য করাই সভ্য সমাজের কর্তব্য।’
সম্প্রতি ইরান দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ শেয়ার করার পর থেকেই বিপুল পরিমাণ অনুদান আসতে শুরু করে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সংগৃহীত এই সমস্ত সামগ্রী ও অর্থ সরকারি ত্রাণ সংস্থা এবং দূতাবাসের মাধ্যমে সরাসরি ইরান পাঠানো হবে। ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক যে আজও সুদৃঢ়, কাশ্মীরের এই উদ্যোগ আবারও তা প্রমাণ করল।



