১১ এপ্রিল : সফল হলো চন্দ্রাভিযান। চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের চার নভোচারী। শনিবার সকালে (আমেরিকান সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। স্প্ল্যাশ ডাউন করে নামানো হয় তাঁদের।
সমুদ্রে অবতরণের (splashdown) পর আর্টেমিস-২-এর কম্যান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানিয়েছেন, চার জন মহাকাশচারীই সুস্থ আছে। এই অভিযান ‘ অসাধারণ এক যাত্রা ছিল’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এটি তাঁর কাছে একটি গর্বের দিন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযান সফল হওয়ার পরে তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে মঙ্গলগ্রহ।
৭০-এর দশকে অ্যাপোলো–১৩ (Apollo) অভিযানে মহাকাশকারীরা (astronauts) পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ১৭১ কিলোমিটার দূরত্বে গিয়েছিলেন। তবে আর্টেমিস–টু অভিযানের চার জন ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্বে গিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বলে জানিয়েছে নাসা (NASA)।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং ক্যানাডার জেরেমি হ্যানসেন ম্যাক ৩৩ গতিতে (অর্থাৎ শব্দের গতির ৩৩ গুণ বেগে) বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেন। ওরিয়ন ক্যাপসুল, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ইন্টিগ্রিটি’, স্বয়ংক্রিয় পাইলটের সাহায্যে এই অবতরণ সম্পন্ন করে। উল্লেখ্য, ক্রিস্টিনা কোচ চাঁদের কক্ষপথে যাওয়া প্রথম মহিলা।
নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল জানিয়েছেন, সমুদ্রে অবতরণের দু’ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হয়। এর পরে তাঁদের আমেরিকান নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথার মেডিক্যাল বে-তে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা (Florida) থেকে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।



