পুলিশ মেয়ের দেওয়া মিল্কশেক খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল বাবার, ৩ বছর পর বেরোলো সত্য, আটক চার

Spread the news

২৮ মার্চ : মহারাষ্ট্র পুলিশের অফিসার ছিলেন জয়ন্ত বল্লায়ার। ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল ডিউটিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। সেই দিন তাঁর ডিউটি ছিল চন্দ্রপুরের জেলাশাসকের অফিসে। বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে তাঁর মেয়ে আর্যা, যিনিও পুলিশে কর্মরত তাঁকে এক গ্লাস মিল্কশেক দেন। তা খেয়েই ডিউটিতে বেরিয়ে যান জয়ন্ত।

জেলাশাসকের অফিসে পৌঁছনোর আগে থেকেই জয়ন্ত বেজায় অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। তাঁর মাথা ঘুরতে থাকে, শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়। জেলাশাসকের অফিসে পৌঁছনোর পরে জয়ন্তর অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তখন কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয়নি জয়ন্তর মৃত্যু নিয়ে। এমনকি, পোস্টমর্টেমও হয়নি তাঁর। বিষয়টি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি।

কিন্তু আসল ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে তিন বছর পরে। পুলিশের তদন্তকারীরা জানতে পারেন জয়ন্তের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। ঠান্ডা মাথায় তাঁকে খুন করা হয়েছিল। খুনের মূল অভিযুক্ত আর কেউ নন, তাঁর নিজের মেয়ে আর্যা বল্লায়ার।

তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে আর্যার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল আশিস শেডমেক নামের এক তরুণের। তিনিও পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ওই সম্পর্ক মেনে নেননি জয়ন্ত। আর্যার প্রেমে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন জয়ন্ত। পুলিশের অভিযোগ, এই বাধা সরাতেই পরিকল্পনা করে জয়ন্তকে খুন করেন আর্যা ও আশিস।

পুলিশ জানায়, আর্যা যোগাযোগ করেন তাঁর তুতো ভাই চৈতন্য গেডামের সঙ্গে। তাঁকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষ জোগাড় করতে বলেন। আরও একজন সেই বিষ সরবরাহ করেছিলেন। ঘটনার দিন সকালে আর্যা নিজেই সেই বিষ মিশিয়ে দেন মিল্কশেকে। তারপর তা বাবার হাতে তুলে দেন। যা খেয়ে মৃত্যু হয় জয়ন্তর।

বাবার মৃত্যুর পর আর্যা ও আশিস বিয়ে করেন। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। খারাপ আচরণের কারণে আশিস পুলিশের ট্রেনিং থেকে বাদ পড়েন। সংসারে অশান্তি শুরু হয়। আর্যাও শ্বশুরবাড়িতে না গিয়ে বাপের বাড়িতে থাকা শুরু করেন।

এর পরেই গল্পের মোড় ঘোরে। গত সপ্তাহে আশিস নিজেই থানায় গিয়ে সব স্বীকার করেন। তিনি জানান, তিন বছর আগে আর্যা নিজের বাবাকে বিষ খাইয়ে খুন করেছিলেন। এই স্বীকারোক্তির পরেই পুলিশ নড়েচড়ে বসে।

গ্রেফতার করা হয় চারজনকে। তাঁরা হলেন আর্যা বল্লাওয়ার, তাঁর স্বামী আশিস, তুতো ভাই চৈতন্য এবং বিষ সরবরাহকারী আর এক অভিযুক্তকে। চারজনই এখন পুলিশের হেফাজতে। এ ভাবেই তিন বছর আগের একটি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’-র ঘটনার রহস্য ভেদ হয়েছে সম্প্রতি। তদন্ত এখনও চলছে। এই ঘটনা নিয়ে আরও চমক সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *