বাংলাদেশে চরম অসুহিষ্ণুতা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে : বরাকবঙ্গ

নৃশংস হত্যা, সংবাদমাধ্যম ও ছায়ানটে হামলার নিন্দা

বরাক তরঙ্গ, ১৯ ডিসেম্বর : ‌গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তুলে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ আশ্রিত শক্তিগুলো চরম অসহিষ্ণু আস্ফালনে গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে দলিত করে ধর্মনির্বিশেষে হত্যা ও হিংসাশ্রয়ী তৎপরতায় যেভাবে মেতে উঠেছে তাতে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। বৃহস্পতিবার রাতে উন্মত্তায় নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উদার মনোভাবাপন্ন কর্মরত সাংবাদিকদের হত্যা, ঢাকায় সংবাদমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছায়ানট দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে তাতে সে দেশের পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। তত্বাবধায়ক ইউনুস সরকার ভারত বিদ্বেষী শক্তিগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ডেকে এনেছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের এই অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের এই ঘটনাপ্রবাহে খুব সঙ্গত কারণেই এদেশের জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে এদেশের জনগণের সুসম্পর্কের আধারে তারা ওই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। তথাকথিত গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনকারীদের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে গোটা দেশের মানুষকে পণবন্দি করে তোলা কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ওই মৃত্যুর ঘটনা খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার রাতে যেভাবে দু’টি প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্র সহ সংবাদমাধ্যমের দপ্তর ও কর্মরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হল, ময়মনসিংহের ভালুকায় এক সাধারণ বস্ত্র শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার রটনায়  পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালানো, খুলনার সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলনকে গুলি করে হত্যা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের দপ্তরে হানা দিয়ে বাদ্যযন্ত্র সহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং উদারপন্থী সংখ্যাগুরুদের উপর বাধাহীন হামলায় এটা প্রমাণ করছে ওই দেশে আইনের শাসন বলে এখন আর কিছু নেই। একসময় যারা গণতন্ত্র রক্ষার আওয়াজ তুলেছিলেন তারাই আজ অপছন্দের ব্যক্তিদের  কন্ঠরোধ ও তাদের নির্মুল করার চেষ্টা করছেন। সে দেশের মুক্তিযুদ্ধের  গৌরবময় ইতিহাস এবং  স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের  সাহসী ভূমিকাকে  অস্বীকার করার প্রবণতা খুবই বেদনাদায়ক।

বাংলাদেশে ভারত বিদ্বেষী তৎপরতা গত কয়েক মাসে ভীষণ বেড়ে গেছে এ কথা উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক দত্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি দিয়ে এদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছোড়ার যে চেষ্টা হচ্ছে সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর পেছনে আন্তর্জাতিক মদতপুষ্ট ধর্মান্ধদের সুগভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে। বিবৃতিতে বরাকবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন প্রতিটি ধর্মের মানুষের প্রতি এপারের জনগণের সহানুভূতি রয়েছে। সে দেশে গণতন্ত্র  প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ধরে যে কঠিন সংগ্রাম শুরু হয়েছে তার প্রতি ভারতের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের সমর্থন অবশ্যই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *