২৮ জানুয়ারি : মুম্বই থেকে বারামতিতে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে আজ সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেয়ার জন্য সেখানে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। আজ সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বারামতির একটি মাঠে ভেঙে পড়ে চার্টার করা বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ (Bombardier Learjet 45) বিমানটি।
ঘন কুয়াশার কারণে মহারাষ্ট্রের বারামতি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন পাইলট, তবে তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর থেকেই এই এগজিকিউটিভ জেটকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক তথ্য। এই ধরনের বিমান মূলত কর্পোরেট এবং বিজনেস ট্র্যাভেলের জন্য ব্যবহার করা একটি জনপ্রিয় ছোট বিমান। ১৯৯৫ সাল থেকেই এই মডেলের উৎপাদন শুরু হয়। তবে ২০০৩ সালে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভারতে এই বিমানের উড়ান সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরণের সমস্যার অভিযোগ উঠেছিল সেই সময়।
পরে রিমডেলিংয়ের মাধ্যমে আবার এই বিমান পরিষেবায় ফেরে। তারপর ধীরে ধীরে আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সূত্রের খবর অনুসারে, মুম্বই পুরভোট থেকে শুরু করে জেলা স্তরের নির্বাচনী সফরেও একাধিকবার এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।
ডিজিসিএ উড়ান সংক্রান্ত নিয়ম আগের থেকে আরও অনেক কড়া করেছে। উড়ানের আগে প্রতিটি যান্ত্রিক দিক খতিয়ে দেখা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের চূড়ান্ত অনুমোদনও এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভিভিআইপি যাত্রার ক্ষেত্রে এই প্রোটোকল আরও কঠোর হওয়ার কথা। আর সেই সমস্ত নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। মনে করা হচ্ছে যে, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাকৃতিক, যান্ত্রিক ত্রুটি না অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনার সময় যে পাহাড়ি এলাকার উপর দিয়ে বিমানটি যাচ্ছিল, সেখানে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল বলে আবহাওয়া রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে কেন ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠছে।
বিমানে অজিত পওয়ারের পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তারক্ষী, একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং দু’জন পাইলট ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ মোট পাঁচ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



