বিশেষ প্রতিবেদক, মরিগাঁও।
বরাক তরঙ্গ, ২১ মার্চ : দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সাড়া বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়। শনিবার মরিগাঁও জেলার লাহরিঘাটের বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে খুশির ইদ পালন করে। এদিন সকাল থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ইদগাহ ময়দানে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। নবীন-বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর সকলেই নতুন পোশাক পরে, গায়ে আতর-সুরমা মেখে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ইদগাহে সমবেত হতে থাকেন। পরে সাড়ে নয়টায় লাহরিঘাট আঞ্চলিক ইদগাহে মাঠে ঈদ-উল ফিতরের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ সহস্রাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে ইমাম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করা হয়। পরে মুসল্লিরা পরস্পরকে কোলাকুলি ও ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

নামাজ শেষে ইমাম তাঁর ভাষণে বলেন যে, ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষটিও ইদের খুশিতে অংশ নিতে পারে। ফিতরা ও জাকাতের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে। কারও মুখে যেন ঈদের দিন অভাবের ছায়া না পড়ে, কারও ঘরে যেন খাবারের অভাবে শোক না নামে। আমাদের উচিত সময়মতো ফিতরা আদায় করা এবং যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, যথাযথভাবে তা গণনা করে হকদারদের মধ্যে বণ্টন করা। মনে রাখতে হবে, জাকাত ও ফিতরা কোনো দান বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ধনীদের ওপর আরোপিত একটি দায়িত্ব। তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে মানবতার সেবা, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দেন।

এদিকে, ঈদের নামাজের আগে ধর্মীয় গুরুরা ঈদ-উল ফিতরের তাৎপর্য ফিৎরা এবং জাকাতের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ঈদের এই আনন্দ উৎসব ঘিরে বৃহত্তর এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ছিল সেমাই, মিষ্টি ও নানা ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পায়েসের বিশেষ আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল আলাদা উৎসব। রঙিন বেলুন, খেলনা গাড়ি ও বিভিন্ন আধুনিক খেলনা বন্দুক নিয়ে খেলায় মেতে ওঠে তারা। ইদ উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সমগ্র মরিগাঁও জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ইদ উৎসব সম্পন্ন হয়।



