মাদ্রাসা দারুল উলুম সাহাবাদে অনুষ্ঠিত শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ১৭ জানুয়ারি : ইলম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে একটি সমাজ। সেই আলোকবর্তিকার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ করিমগঞ্জের লাতু–সজপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা দারুল উলুম সাহাবাদ সাক্ষী থাকল এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের। জ্ঞানচর্চা, প্রতিভা বিকাশ এবং আদর্শ মানুষ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই দিনব্যাপী কর্মসূচি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবক ও সমাজের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে পরিণত হয় এক অনুপ্রেরণাময় মিলনমেলায়। এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষামূলক ও প্রেরণাদায়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ৯ টায় প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে। এই অধিবেশনে স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে কিরাত, গজল ও নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের সাবলীল তিলাওয়াত, সুরেলা কণ্ঠে গজল ও নাত পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাস ও নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে, যা অভিভাবক ও দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।

দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় দুপুর ১টায়। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মওলানা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। অধিবেশনের শুরুতে আগত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী আসামি গামছা দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক মর্যাদা যোগ করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুদূর লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রিপ্রাপ্ত, তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ও আশার আলো হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার হাফিজ ইলিয়াস আনসারি। তিনি তাঁর প্রাঞ্জল ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার সুষ্ঠু সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরেই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ হয়ে বিশ্বমানের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরপুর টাইটাল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হযরত মওলানা মুফতি আব্দুল বাসেত কাসিমি এবং জাতুয়া আলিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মওলানা এমাদ উদ্দিন সাহেব। তাঁদের বক্তব্যে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং আদর্শ মানুষ তৈরিতে মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁরা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আইনজীবী দাইয়ান হোসাইন, একে আজাদ হাইস্কুলের অধ্যাপক মওলানা আব্দুল নুর, শিক্ষক আতাউল করিম চৌধুরী, জেলা সংখ্যালঘু বোর্ডের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, শিক্ষক শাহনেওয়াজ আহমেদ, মাদ্রাসার হেড মাওলানা হুসাইন আহমদ, নয়াবাজার গার্লস এম স্কুলের শিক্ষক শামসুল হক চৌধুরী, সহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ব ও ঐক্যের বার্তা ফুটে ওঠে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন সমাজকর্মী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি তাঁর দক্ষ উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শেষ পর্বে কিরাত, গজল, নাত ও রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী পর্বে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ও উৎসাহ-উদ্দীপনা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্য রাখেন শিক্ষক বাবর আহমেদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *