হাইলাকান্দিতে জেলাভিত্তিক “ইকো হ্যাকাথন” সম্পন্ন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : অসম বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিদ্যা এবং পরিবেশ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এবং শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতায় আর্যভট্ট বিজ্ঞান কেন্দ্র লালা সহযোগিতায় রিবেশ বান্ধব উদ্ভাবনের এক অনন্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় হাইলাকান্দির পাবলিক হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রেক্ষাগৃহে। এমর্মে সম্প্রতি  ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে জেলাভিত্তিক “ইকো হ্যাকাথন” অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নকে মূল বিষয়বস্তু করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার ৪০টি বিদ্যালয়ের ৮০ জন ছাত্রছাত্রী, ৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কাঠলিছড়া খণ্ড শিক্ষা আধিকারিক নজমুল হক লস্কর এবং হাইলাকান্দ বিজ্ঞান মন্দির আধিকারিক বাহারুল ইসলাম লস্কর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অতিথিবৃন্দ কে অভ্যর্থনা জানান আর্যভট্ট বিজ্ঞান কেন্দ্রের জেলা সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বড়ভূইয়া। এই ইকো হেকাথন প্রদর্শনীর প্রধান অতিথি হাইলাকান্দি জেলার বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক তাপস দত্ত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়  বরং ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকেই সচেতন নেতৃত্ব তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও গবেষণামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি কাঠলিছড়ার ব্লক আধিকারিক নজমুল হক লস্কর পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দিনব্যাপি চলা ইকো হ্যাকাথনের মূল আকর্ষণ ছিল ছাত্রছাত্রীদের প্রদর্শনী। সেখানে উপস্থাপিত হয় সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানি ভিত্তিক মডেল, রান্নার চুলার অতিরিক্ত তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রকল্প, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ জল পুনরুদ্ধার মডেল, জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি, ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, স্কুলে উৎপাদিত বিভিন্ন রকম কৃষি ভিত্তিক সামগ্রী, পাখির বাসা ইত্যাদি।  প্রতিটি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়ীনুল হক মেমোরিয়েল বিজ্ঞান কলেজের অধ্যাপক সহিদুল আলম লস্কর, লালা শিক্ষা ব্লকের ব্লক রিসোর্স পার্সন নজমূল ইসলাম মজুমদার এবং হাইলাকান্দি ব্লকের সিআরসিসি প্রতুল সিনহা বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্ভাবনী দিক, বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করেন। অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দর্শনার্থীরা শিক্ষার্থীদের কাজের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের পরিবেশ সচেতন মনোভাবকে সাধুবাদ জানান। অনেকেই মত প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

সার্বিকভাবে “ইকো হ্যাকাথন” শুধুমাত্র এক প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আয়োজকেরা  কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও বৃহত্তর পরিসরে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে কাঠলিছড়া শিক্ষা ব্লকের অন্তর্গত  সুলতানিছড়া এমই স্কুল, দ্বিতীয় হয়েছে পাবলিক হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং তৃতীয় পুরষ্কার পেয়েছে লালা শিক্ষা খণ্ডের  মাদারিপার এমই স্কুল। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জনকল্যাণ এমই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইনুল হক মজুমদার,  উজানকোপা এমই স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক জাবির মোহাম্মদ লস্কর প্রমুখ। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন আর্যভট্ট বিজ্ঞান কেন্দ্র লালার কোওর্ডিনেটর জিয়া উদ্দিন বড়ভূইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *