বরাক তরঙ্গ, ১৩ ফেব্রুয়ারি : মরিগাঁও জেলার ৬০ জন যক্ষ্মা রোগীর মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। শুক্রবার এই উপলক্ষ্যে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম সঞ্চালকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দিয়ে জেলাশাসক অনামিকা তেওয়ারি বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি আশঙ্কা থাকে। তাই খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেরই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যক্ষ্মা কোনো বড় রোগ নয় , মহিলারা সাধারণত ভালো খাবার নিজে না খেয়ে তাদের স্বামী বা সন্তানকে দিয়ে দেন। তাই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তিনি বলেন, যক্ষ্মা রোগী বলে যখন মানুষ অবহেলা করে, তখন রোগীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
যক্ষ্মা রোগীদের আমাদের স্নেহ ও সহানুভূতির সাথে দেখা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বাড়িতে থাকা ছোট ছোট জিনিসও পুষ্টিকর খাদ্য হতে পারে বলে , তার জন্য খুব বেশি টাকাপয়সার প্রয়োজন হয় না। যদি পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে শরীর দুর্বল লাগে, তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসে ভিটামিন নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে জেলার আরও বেশি যক্ষ্মা রোগীকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলে মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা শাসক (স্বাস্থ্য) নীতিশা বড়ুয়া বলেন, যক্ষ্মা রোগীদের মানুষ অবহেলার চোখে দেখবেন না। তারাও যাতে সমাজের একটি অংশ হিসাবে জীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, সেজন্যই এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক ডাঃ অমরজ্যোতি ডেকা যক্ষ্মা রোগীদের সহায়তা করার জন্য সকলকে যথাসাধ্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিক্ষয় মিত্র হওয়ার আহ্বান জানান। আজকের সভায় স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ অরুণ নাথ, জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযান, মরিগাঁওয়ের জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক জুফিন সুলতানা এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।



