৩০ মার্চ : ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নিজেদের উন্নত ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র নিরোধক ব্যবস্থার মজুদ বজায় রাখতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইজরায়েল। এখন থেকে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত না করে, কেবল জনবসতিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
চলমান সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সমরাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন তাদের উচ্চস্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে তুলনামূলক নিম্নস্তরের ব্যবস্থার আধুনিক সংস্করণ ব্যবহার করছে। এছাড়া, যেসব ক্ষেপণাস্ত্র জনমানবহীন বা ফাঁকা জায়গায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে ইন্টারসেপ্ট না করে পড়তে দেওয়া হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্নস্তরের পরিমার্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে সম্প্রতি দক্ষিণ ইজরায়েলের আরদ এবং ডিমোনা শহরে দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
এই হামলায় আরদ শহরে ১৮ শিশুসহ ৩১ জন এবং ডিমোনা শহরে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে হতাহতের সংখ্যার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এই শহর গুলোর অবস্থান। ডিমোনার পরমাণু চুল্লি এবং নেভাতিম বিমান ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই হামলাগুলো ইজরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত। আয়রন ডোম রয়েছে স্বল্প পাল্লার রকেট ও ড্রোন ধ্বংসের জন্য। মাঝারি পাল্লার ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ডেভিড’স স্লিং। আর দীর্ঘ পাল্লার উচ্চ উচ্চতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য রয়েছে অ্যারো ২ এবং ৩। ফুরিয়ে আসছে মজুদ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে আগের দফার সংঘর্ষে ইজরায়েলের ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টরের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বর্তমান সংঘাতে ইরান ৪০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহর রকেট হামলা তো রয়েছেই।
মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সিনিয়র অ্যানালিস্ট তাল ইনবার বলেন, “ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা সীমিত। লড়াই যত দীর্ঘ হবে, মজুদ তত কমবে। ফলে কোনটি ধ্বংস করা হবে আর কোনটি নয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক হিসাব করতে হচ্ছে।”
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



