গরু ও ছাগল চুরি ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি, শূন্যে গুলি পুলিশের ডিব্রুগড়ে

বরাক তরঙ্গ, ২ জানুয়ারি : উজনি অসমে বিভিন্ন প্রান্তে গরু ও ছাগল চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিলাসবহুল গাড়িতে এসে প্রতিদিন গোয়ালঘর থেকে গরু ও ছাগল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। চুরির বাড়বাড়ন্তে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নববর্ষ উদযাপনের মাঝেই এবার গরু চোরকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গরু চোরকে রক্ষা করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় পুলিশকে ঘেরাও করে। এমনকি জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে শূন্যে গুলি চালাতে হয়। ঘটনাটি ডিব্রুগড়ের মাইজান নতুন গাঁও এলাকার।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। ফলে বছরের প্রথম দিনেই রাতে স্বেচ্ছায় পাহারার ব্যবস্থা করে স্থানীয় যুবকরা। সেই সময় একটি গাড়িসহ সন্দেহভাজন গরু চোরকে আটক করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনতার হাত থেকে সন্দেহভাজন চোরকে উদ্ধার করে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পরই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শূন্যে গুলি চালায়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা না হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, “ডিব্রুগড়ের মাইজান নতুন গাঁও এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে গরু চুরি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের গাড়িতে এসে গোয়ালঘর থেকেই গরু নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা যুবকরা আলোচনা করে চোর ধরার জন্য ভোররাত থেকে পাহারা দিচ্ছিলাম। ভোরের দিকে একটি গাড়ি আসে। গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ গ্রামের ভেতরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আবার ফিরে যেতে চাইলে আমরা থামানোর চেষ্টা করি। তারা পালানোর চেষ্টা করলে ব্যারিকেড দিলে গাড়িটি থেমে যায়, তবে গাড়ির ভেতর থেকে কেউ নামেনি। গাড়ির ভেতর থেকেই তারা পুলিশকে খবর দেয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে সন্দেহভাজন যুবকদের কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ছেড়ে দেয়। কেন ছেড়ে দেওয়া হলো জানতে চাইলে পুলিশ উল্টো আমাদের দিকেই গুলি চালায়।”

ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ গরু চোরদের রক্ষা করছে। তবে ওই গাড়িতে আসা যুবকরা কী উদ্দেশ্যে গ্রামে এসেছিল? তারা সত্যিই গরু চোর ছিল কি না—এ সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *