বরাক তরঙ্গ, ২৫ ফেব্রুয়ারি : ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র করিমগঞ্জ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি দল ভোট গণনার কাজে, বিশেষ করে স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ দিন আবদ্ধ রেখে ছাত্রছাত্রীদের অশেষ শৈক্ষিক ক্ষতি সাধন করা না হয় তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জেলা আয়ুক্তকে সাক্ষাৎ করে এক স্মারকপত্র প্রদান করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি সম্পর্কে অবগত করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্ষেপে যান এবং বলেন, এটা তাঁর নিজের এক্তিয়ারের বিষয়। তিনি অন্য কোন মতামত শুনতে রাজি নন। এতে প্রতিনিধি দল হতভম্ব হয়ে পড়েন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি স্মারকপত্র কার্যালয়ে প্রদান করা হয়। আজকের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ছাত্র সংগঠনের জেলা সভাপতি এবং রাজ্য কমিটির সদস্য সুজিতকুমার পাল, জেলা সম্পাদক এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সঞ্চিতা শুক্ল, রাজ্য কমিটির সদস্য জয়দীপ দাস।
স্মারকপত্রে বলা হয়, প্রতি সময়েই বিধানসভা বা লোকসভা বা পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে করিমগঞ্জ জেলায় প্রত্যক্ষ করা হয়েছে যে করিমগঞ্জ কলেজকে ভোট গণনার কাজে প্রায় এক মাস বা ততোধিক সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রেখে পঠন পাঠন বন্ধ করা হয়। এমনকি অধ্যক্ষের রুমে পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজ কর্ম পরিচালিত হয়। ভোট গণনার পরোক্ষ প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্কুলগুলোতে শিক্ষাদান ব্যাহত হয়। প্রায়ই ভোট গণনার প্রয়োজনে করিমগঞ্জ কলেজের ঘরগুলোকে সুবিধা মতো ভেঙে সাজানো হয়। পরে মেরামতের যে কাজ হয় তা মোটেই সন্তোষজনক হয় না।
জেলা আয়ুক্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্মারক পত্রে বলা হয় যে সেমিষ্টার পরীক্ষা পদ্ধতির যুগে কলেজকে দীর্ঘ দিন ধরে আবদ্ধ করে রাখলে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের যথেষ্ট ক্ষতি সাধিত হয় যা মোটেই বাঞ্চনীয় নয়।
এমতাবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে গভীর সহানুভূতির সাথে ন্যায়সংগত দাবিগুলো বিবেচনা করে তা বাস্তবায়িত করার জন্য সময়োপযোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। স্মারকপত্রে উত্থাপিত দাবি ছিল – ভোট গণনার কাজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা চলবে না। অবিলম্বে বিকল্প স্থায়ী ভোট গণনা কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে হবে এবং এবারের ভোট গণনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার না করে অস্থায়ী ভোট গণনা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

স্মারকপত্র প্রদান করার পর এআইডিএসও’র করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক জনসাধারণের সম্মুখে পক্ষ থেকে বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের স্বার্থে এআইডিএসও’র পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন জেলা আয়ুক্তের কাছে বিগত ৫০ বছর ধরে অসংখ্য স্মারকপত্র প্রদান করা হয়েছে। বহুক্ষেত্রে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। এরকম দুর্ব্যবহারের কখনও সম্মুখীন হতে হয়নি। জেলা আয়ুক্ত জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রতিপালিত একজন আধিকারিক মাত্র। গণতান্ত্রিক দেশে তিনি একনায়ক নন। জনগণের বা ছাত্রছাত্রীর মতপ্রকাশের বা আন্দোলনের অধিকার তিনি কেড়ে নিতে পারেন না। ক্ষুদিরাম, ভগৎ সিং, নেতাজি সহ স্বাধীনতা আন্দোলনের হাজার হাজার সংগ্ৰামী ব্যক্তিত্বদের অশেষ আত্মত্যাগ, মহান শহিদদের রক্তাক্ত আত্মবলিদানের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই জেলা আয়ুক্তের চূড়ান্ত স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক এবং শিষ্টাচার বিরোধী আচরণকে মেনে নেওয়া যায় না। এআইডিএসও এই অন্যায়, ফ্যাসিবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানায়।
এআইডিএসও’র করিমগঞ্জ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতিতে বলা হয় আজকের ঘটনা এক অশনিসংকেত। গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর মারাত্মক আঘাত। তাই এই স্বৈরাচারী আচরণ এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভোট গণনার কাজে ব্যবহার না করে বিকল্প ভোট গণনা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য জেলার সর্বস্তরের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছে আহ্বান জানানো হয়।



