বরাক তরঙ্গ, ১৩ ফেব্রুয়ারি: মেঘালয়ের এক কয়লাখনি বিস্ফোরণে মৃত ঘোষিত হওয়া এবং যার শেষকৃত্যও সম্পন্ন হয়েছিল— সেই শ্যামবাবু সিনহা তিনদিন পর সশরীরে বাড়িতে ফিরে আসায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে আনন্দের জোয়ার, তবে দাহ করা ব্যক্তির পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। জানা যায়, রাতাবাড়ি থানার লেংটারপার গ্রামের বাসিন্দা শ্যামবাবু সিনহা প্রায় এক মাস আগে জীবিকার তাগিদে মেঘালয়ের চুতুংগা এলাকার থাংকসু নামক স্থানে কয়লাখনির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ওই খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু শ্রমিক হতাহত হন। ঘটনার পর থেকেই শ্যামবাবুর কোনও সন্ধান মিলছিল না।
বিস্ফোরণের পর মেঘালয়ের কেলেরিয়াট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মর্গে থাকা একটি মৃতদেহকে শ্যামবাবু সিনহা বলে শনাক্ত করে। শোকস্তব্ধ পরিবার সেখানে গিয়ে দেহটি তাঁর বলেই নিশ্চিত করে গ্রামে নিয়ে আসে এবং ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।
ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে তিনদিন পর। বাড়িতে যখন আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সংলগ্ন আচার পালিত হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় জীবন্ত শ্যামবাবু হঠাৎ বাড়ির উঠোনে এসে উপস্থিত হন। তাঁকে সামনে দেখে প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। পরে ভুল ভাঙতেই শুরু হয় আবেগঘন আনন্দাশ্রু।
এক প্রতিবেশীর কথায়, “যাঁকে নিজের হাতে দাহ করলাম, তিনি কীভাবে ফিরে এলেন— ভাবতেই পারছি না। যেন মৃত্যুকেও ফাঁকি দিয়ে ফিরে এসেছেন!”
শ্যামবাবুর প্রত্যাবর্তনে পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও বড় প্রশ্ন উঠেছে— তবে চিতায় দাহ হওয়া ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কে? এই বিভ্রান্তি দূর করতে মেঘালয় পুলিশ ও রাতাবাড়ি থানার মধ্যে সমন্বয় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিখোঁজ অন্যান্য শ্রমিকদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি ঘিরে সমগ্র এলাকায় চরম কৌতূহল ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।



