শুধু মাশুল বৃদ্ধিতে তৎপর এপিডিসিএল, গ্ৰাহকদের সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় উদাসীন : কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন

বরাক তরঙ্গ, ৪ ফেব্রুয়ারি : মাশুল বৃদ্ধির জন্য এপিডিসিএল যতটুকু তৎপর, গ্ৰাহকদের সুযোগ সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় ততটুকু উদাসীন। বুধবার গুয়াহাটির প্রেস ক্লাবে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের অসম রাজ্য শাখার অন্যতম আহ্বায়ক অজয় রায় এবং প্রধান উপদেষ্টা, এপিডিসিএল এর অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যানেজার বিমল দাস এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা  বলে তাঁরা জানান, রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি এপিডিসিএল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিদ্যুতের ট্যারিফ (মাশুল) নিৰ্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। মাশুল বৃদ্ধির জন্য এপিডিসিএল যতটুকু তৎপর, গ্ৰাহকদের সুযোগ সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় ততটুকু উদাসীন। লোকসানের কথা বলে এপিডিসিএল বিগত কয়েক বছরে গ্ৰাহকদের কাছ থেকে অধিক মাশুল সংগ্রহ করেছে। গত অর্থবছরে কোম্পানি ৪০০ কোটি টাকা লাভ করেছে। বিদ্যুৎ যেহেতু একটি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ও এপিডিসিএল একটি সরকারি কোম্পানি, তাই নিয়মমতে লভ্যাংশের নিরিখে পরবৰ্তী সময়ে মাশুল হ্ৰাস করতে হয়। কিন্তু তা না করে এপিডিসিএল কয়েকটি ক্ষেত্রে পূৰ্বের টারিফ বহাল রেখেছে এবং অন্য কিছু ক্ষেত্রে মাশুল বৃদ্ধির প্ৰস্তাব করেছে। তাঁরা বলেন যে, এবার প্ৰতি ইউনিট বিদ্যুতের বিতরণ মূল্য ( cost of supply) গতবারের তুলনায় ১৯ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। উল্টো দিকে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে, এবার গ্ৰাহকদের মাশুল হ্ৰাস করতে হবে।

স্মাৰ্ট প্ৰিপেড মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে বিহার ও অসম প্রথম সারিতে রয়েছে। বিহারে ২০২৫ সালের বিধানসভা নিৰ্বাচনের পূর্বে সরকার ১২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে প্রদানের ঘোষণা করেছিল এবং নবগঠিত সরকার তা প্রদান করছে। কিন্তু অসম সরকার আজ পর্যন্ত সাধারণ গ্ৰাহকদের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনও ব্যবস্থা তো করেনি, বরং মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে। অসমে নতুন করে কারও ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে চাইলে ১০/১২ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়। শুধু স্মাৰ্ট মিটারের দাম ৯০০০ টাকা। অথচ আগে ৩/৪ হাজার টাকায় নতুন সংযোগ পাওয়া যেতো। ডিজিটেল মিটার পরিৱৰ্তন করে স্মাৰ্ট মিটার বসানোর মধ্য দিয়ে মিটার প্ৰস্তুতকারী প্ৰাইভেট কোম্পানীগুলোকে মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

Electricity (Right of Consumers) Rules 2020’র অধীনে ভারত সরকার গত ৩১/১২/২০ তারিখে GSR818(E) নং নির্দেশনায় গ্ৰাহকদের অভাব, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য রাজ্য, জেলা, মণ্ডল, সংমণ্ডল ইত্যাদি তৃণমূল পৰ্যায়ে সিজিআরএফ (Consumer Grievances Redressal Forum) গঠন করা বাধ্যতামূলক করেছে। গত ২০২৪ সনে টারিফ আবেদনের উপর গণ শুনানীতে আমাদের সংগঠন বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে রেগুলেটরি কমিশন নিৰ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা গঠনের জন্য এপিডিসিএলকে নিৰ্দেশ দেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তৃণমূল পৰ্যায়ে তা হয়ে উঠে নি। এ ক্ষেত্রে এপিডিসিএল সম্পূৰ্ণ উদাসীন। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন হতবাক এই কারণে যে এপিডিসিএল রেগুলেটরি কমিশনের নিৰ্দেশনাকেও পাত্তা দিচ্ছে না।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজ্য পৰ্যায়ে সিজিআরএফ’র ভূমিকা অপরিসীম। পূর্বে এর সৰ্বোচ্চ পদে কোনো অবসরপ্ৰাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা হত। এখন তা পরিবৰ্তন করে কোনো কৰ্তব্যরত মূখ্য অভিযন্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়, যার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। তাই কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে আইনী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোনও অবসরপ্ৰাপ্ত বিচারপতিকে দায়িত্ব দিতে হবে লাগে এবং ফরামগুলোতে গ্ৰাহক সমিতির উপযুক্ত প্ৰতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

রাজ্যে এখন পর্যন্ত প্ৰায় ৫০ লক্ষ গ্ৰাহকদের ডিজিটেল মিটার সরিয়ে প্ৰিপেড স্মাৰ্ট মিটার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, এসব গ্ৰাহকদের আমানতের টাকা আজ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হয় নি। বরং এপিডিসিএলে অন্যায়ভাবে আমানতের টাকা দৈনিক বিদ্যুতের খরচের সাথে যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রচার করছে। এটা সম্পূৰ্ণ অন্যায় ও বেআইনি।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ এপিডিসিএলের উদাসীনতা, অকৰ্মণ্যতার জন্য প্ৰায় প্ৰতিদিন আসামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গত এক বছরে প্ৰায় শতাধিক মানূষ অকালে প্ৰান হারিয়েছে। দক্ষতাহীন, ঠিকাভিত্তিক লোক দিয়ে নিয়ম বহিৰ্ভূতভাবে কাজ করানোর জন্য বহু বিদ্যুৎ কৰ্মীর মৃত্যু হয়েছে। বহুদিন আগে এ সম্পর্কে বিচারপতি এইচ এন শৰ্মা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কমিশনের পরামর্শগুলি কাৰ্যকর হয়নি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হওয়া লোকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো দাবি অ্যাসোসিয়েশন জানায়।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল -২০২৫ এর তীব্র বিরোধিতা করে বলে যে এই বিল চূড়ান্ত গ্রাহক বিরোধী এবং কর্পোরেট বান্ধব। অ্যাসোসিয়েশন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ সাব্যস্ত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *