শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিলনে ইচাবিল নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রদায় উৎসব

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ৯ জানুয়ারি : সমগ্র শিক্ষা শ্রীভূমি জেলা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে দুই দিবসীয় অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠে পাথারকান্দি শিক্ষাখণ্ডের অন্তর্গত লোয়াইরপোয়া ব্লকের ইচাবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ৭৪৫ নম্বর ইচাবিল নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হলো দুই দিবসীয় সম্প্রদায় ভিত্তিক উৎসব। সমগ্র শিক্ষা শ্রীভূমি জেলা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

দু’দিনের অনুষ্ঠানের শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে দুপুর বারোটায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ইচাবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী সবিতা কুর্মি ও বিদ্যালয় এসএমসি সভাপতি কুঞ্জবিহারী গোয়ালা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, অতিথিবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। এ মর্মে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃন্ময়কান্তি নাথ জানান, বৃহস্পতিবার প্রথম দিন বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। দৌড়, বল নিক্ষেপ, লাফানো সহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কচিকাঁচা ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এবং বিদ্যালয় চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে শিশুদের হাসি-আনন্দে। অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও অংশগ্রহণ করে। নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশনার মাধ্যমে পড়ুয়ারা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। বিশেষভাবে ঝুমুর নৃত্য ও ধামাইল নৃত্যের ছন্দে গোটা অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন।এরপর এসএমসি সভাপতি কুঞ্জবিহারী গোয়ালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় তাৎক্ষণিক বক্তৃতা সভা।

এতে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি ব্লক শিক্ষাধিকারিক বিশ্বজিত দে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই হলো জাতির মেরুদণ্ড। প্রত্যেক শিশুর শিক্ষা লাভ তাদের মৌলিক অধিকার। তবে শুধুমাত্র পুথিগত শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পড়ুয়াদের বহুমুখী জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য এই ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় উদ্যোগে বিদ্যালয়ে আয়োজিত এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।ইচাবিল গ্রাম পঞ্চায়েত সভানেত্রী সবিতা কুর্মি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি। এই স্তর মজবুত হলে শিশুরা ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।” তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে পড়ুয়ারা গুণগত ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা লাভ করে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়।সহকারী শিক্ষক মৃন্ময়কান্তি নাথ তাঁর বক্তব্যে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সার্বিক বিকাশের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজ—সবার সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক রতনলাল কানু, রাজদীপ গোয়ালা, উজ্বল সিনহা, কনক আচার্য, শোভা গোয়ালা, প্রসেনজিৎ দেবনাথ, গৌতম রায় প্রমুখ।অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অভিভাবকদের উদ্যোগে মুখ্য অতিথি ও অন্যান্য অতিথিদের উত্তরীয় প্রদান করে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। পরে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী কৃতী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইচাবিল বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি রাজু কুর্মি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মধুসূদন তাঁতোয়া সহ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকগণ। সবশেষে সভার সভাপতি কুঞ্জবিহারী গোয়ালা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুই দিবসীয় এই সম্প্রদায় ভিত্তিক উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *