মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ মার্চ : করিমগঞ্জ কলেজকে নির্বাচনের স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার না করে বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে স্মারকপত্র দিতে গিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলা আয়ুক্তের দুর্ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে করিমগঞ্জ। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার শহরের বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে এক নাগরিক সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিটি নির্বাচনের পর করিমগঞ্জ কলেজ-কে স্ট্রংরুম হিসেবে ব্যবহার করার ফলে দীর্ঘদিন ধরে কলেজের পঠন-পাঠন ব্যাহত হয়। এর প্রতিবাদে এবং বিকল্প স্থানে স্ট্রংরুম স্থাপনের দাবিতে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলা আয়ুক্তের কাছে স্মারকপত্র প্রদান করতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় শহরের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, ছাত্র প্রতিনিধি এবং অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।
সুনীতরঞ্জন দত্ত, জ্যোতির্ময় দাস, গৌতম চৌধুরী, নির্মল কুমার দাস ও চন্দন চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলীর পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন পিকলু দে। ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র জেলা সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল স্মারকপত্র প্রদান করতে গিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সুজিতকুমার পাল।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে করিমগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রুচিতা পুরকায়স্থ বলেন, কোনও ছাত্রছাত্রীই তাদের পঠন-পাঠন বন্ধ হয়ে যাক তা চান না। ছাত্রদের স্বার্থে নাগরিক সমাজ যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তাতে ছাত্র সমাজও তাদের সঙ্গে একযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান। ছাত্র সংসদের প্রাক্তন ছাত্র সম্পাদক এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)-র জেলা সভাপতি সুস্মিত দেব বলেন, আগেও স্ট্রংরুম অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তখন এ ধরনের দুর্ব্যবহার করা হয়নি। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

এছাড়াও সভায় প্রাক্তন শিক্ষক সুবীর বরণ রায়, আইনজীবী নন্দন কুমার নাথ, লেখক সতু রায়, অধ্যাপক নির্মল কুমার সরকার, শ্রমিক নেতা চন্দন চক্রবর্তী, চিকিৎসক ডাঃ মোস্তফা আহমেদ চৌধুরী, গৌতম চৌধুরী, বদরুল হক চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে কলেজকে বারবার নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি জেলা আয়ুক্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত নিন্দনীয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সভা থেকে জেলা আয়ুক্তের বিতর্কিত আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। পাশাপাশি করিমগঞ্জ কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতে বিকল্প কোনো সরকারি ভবনে স্ট্রংরুম স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। এছাড়া স্থায়ী স্ট্রংরুম নির্মাণের দাবিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত নাগরিকরা একযোগে জানান, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



