জনসংযোগ, হাইলাকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ জানুয়ারি : হাইলাকান্দি জেলার শিশু সুরক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দক্ষিণ হাইলাকান্দির জামিরায় বৃহস্পতিবার শিশু সুরক্ষার এক সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। শিশু সুরক্ষা সম্পর্কে রাজ্য সরকারের সম্প্রতি চালু করা “সুরক্ষিত শৈশব সোনালী অসম” প্রকল্পের অধীনে এতে শিশুর রক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে জানানো হয় যে ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ নিবারণ আইন অনুযায়ী ২১ বছরের নিচের ছেলে এবং ১৮ বছরের নিচের মেয়ের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ রয়েছে।। এই আইন ভঙ্গ করলে বিবাহ আয়োজনকারী অভিভাবক অতিথি দের ক্ষেত্রে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং নগদ এক লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা দুটোই দন্ড হতে পারে।
সভায় আরও জানানো হয় যে বাল্যবিবাহে কন্যা শিশুদের উপর শারীরিক মানসিক এবং আবেগিক অবস্থার বিরূপ প্রভাব পড়ার ফলে শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। বাল্যবিবাহের পরবর্তী দাম্পত্য জীবন খুব দুঃখময় এবং আর্থিক দৈন্যতায় ভরে ওঠে। এছাড়া সভায় ২০১৬ সালের সংশোধিত শিশু ও কিশোর শ্রমিক আইন নিয়ে আয় আলোচনা সময় জানানো হয় যে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা ঘরোয়া কাজে নিয়োগ করা আইনত দণ্ডনীয়। এই আইন ভঙ্গ করলে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাবাস এবং শিশু শ্রমিক নিয়োগের অপরাধে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে।
এছাড়া সভায় শিশুর দত্তক নেবার আইনের সংস্থান নিয়ে আলোচনা সময় জানানো হয় যে অবৈধভাবে শিশু সন্তানকে দত্তক গ্রহণ করা আইনত দণ্ডনীয়। ২০১৫ সালের জুবেনাইল জাস্টিস এক্ট নিয়ে আলোচনা করার সময় জানানো হয়, অপ্রত্যক্ষ দত্তক গ্রহনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই এক্টের ৮০ নং ধারার অধীনে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের সংস্থান রয়েছে।। সভায় জানানো হয় যে, শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা ১০৯৮ ফোন নম্বরে জানানো যায়। সভায় ভাষণ দেন বিডিও আদিত্য মুখার্জি, জাকির হোসেন, নিরেন সিংহ এবং মোস্তাক আহমদ।
শুরুতে স্বাগত ভাষণে উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সৈয়দ জালাল উদ্দিন জানান জেলায় ৯০ দিনব্যাপী চলতি সুরক্ষিত শৈশব সোনালী অসম প্রকল্প অনুসারে শিশুদের রক্ষাকবচ গুলি সম্পর্কে সচেতনতা অভিযানের অঙ্গ হিসাবে এইসভা আয়োজন করা হয়েছে।



