মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ ফেব্রুয়ারি : শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হতে চলেছে পাথারকান্দি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাথারকান্দি বি.এড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চারদিনব্যাপী পাথারকান্দি বইমেলা। বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।বইমেলা উপলক্ষে বুধবার পাথারকান্দি বি.এড কলেজের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সম্মানীয় অধ্যক্ষ ড. আইনুল হক, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, আয়োজক কমিটির সদস্যরা এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন সাংবাদিকদের সামনে বইমেলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, সময়সূচি ও বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যক্ষ ড. আইনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারে পাঠাভ্যাস ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বইমেলার মতো উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে আবার বইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বই শুধু জ্ঞান অর্জনের উপকরণ নয়, এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, মনন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, বই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং একটি সচেতন, সুস্থ সমাজ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে। সেই লক্ষ্য নিয়েই পাথারকান্দি বইমেলার আয়োজন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বইমেলায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের স্বনামধন্য ও খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থাগুলি অংশগ্রহণ করবে। পাঠকদের জন্য থাকবে গল্প, উপন্যাস কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন,শিশু সাহিত্য, শিক্ষামূলক বইসহ নানা বিষয়ের বিপুল সম্ভার। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সের পাঠকের কথা মাথায় রেখেই বইয়ের সংগ্রহ সাজানো হয়েছে। বই কেনাবেচার পাশাপাশি মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে থাকছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রতিদিন থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন লেখক-পাঠক মুখোমুখি আলোচনা, সাহিত্য আড্ডা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় ও আমন্ত্রিত সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে এই মেলা পরিণত হবে এক প্রকৃত সাহিত্য উৎসবে।বিশেষভাবে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশের দিকে নজর রেখে কুইজ প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপড়ার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কল্পনাশক্তি ও মননচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাথারকান্দি বইমেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। বইয়ের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। তাই পাথারকান্দি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষক শিক্ষার্থী, অভিভাবক সাহিত্যপ্রেমী ও সাধারণ পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়।উল্লেখ্য, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পাথারকান্দি বি.এড কলেজ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার উদ্বোধন হবে এবং মেলা চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিনই থাকবে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যা মেলাকে আরও উৎসবমুখর করে তুলবে।পাথারকান্দি কলেজ অব এডুকেশনের পক্ষ থেকে সকল বইপ্রেমী মানুষকে এই বইমেলায় উপস্থিত থেকে মেলাকে সাফল্যমণ্ডিত ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের আশা এই বইমেলা পাথারকান্দির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং পাঠকসমাজের মধ্যে জ্ঞানচর্চার নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক এএস হোসেন আহমদ, ফখরুল ইসলাম, ফজলুর করিম, সমাজকর্মী সিদ্ধার্থ শেখর পাল চৌধুরী প্রমুখসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, আয়োজক কমিটির সদস্যরা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



