বরাক তরঙ্গ, ৩০ জানুয়ারি : প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বাজারিছড়া শিববাড়ি প্রাঙ্গণে শুরু হতে যাচ্ছে সর্বজনীন ৩২ প্রহর ভুবনমঙ্গল হরিনাম সংকীর্তন। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মহিমান্বিত নামযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সমগ্র বাজারিছড়া এলাকায় এক ভক্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শুভ অধিবাসের মাধ্যমে এই পবিত্র নাম সংকীর্তনের সূচনা হবে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সুদীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে বাজারিছড়া শিববাড়ী প্রাঙ্গণে এই হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি বর্তমানে বৃহত্তর বাজারিছড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি অন্যতম বাৎসরিক সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর এই মহান নামযজ্ঞকে ঘিরে আয়োজক কমিটির সদস্যদের মধ্যে এখন চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিববাড়ী প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে তোলার জন্য চলছে ব্যাপক প্রস্তুত আলোকসজ্জা, মণ্ডপ নির্মাণ, ভক্তদের বসার সুব্যবস্থা সহ যাবতীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রতিবছরের মতো এবছরও কীর্তন চলাকালীন সময়ে প্রায় কয়েক হাজার ভক্ত ও গৌরভক্তদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন কীর্তন পরিচালন সমিতির কর্মকর্তারা। হরিনামের অমৃতধারায় সিক্ত হয়ে কৃষ্ণনাম সুধায় মুখরিত হয়ে উঠবে গোটা বাজারিছড়া এলাকা। এই নামসংকীর্তনের মাধ্যমে সনাতনী হিন্দু সমাজের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনার নবজাগরণ ঘটে বলে মত ভক্তবৃন্দের।
এই পবিত্র নামসংকীর্তনে অধিবাস ও পূর্ণা কীর্তন পরিবেশন করবেন ত্রিপুরার তিলথই এলাকার বিশিষ্ট কীর্তনীয়া জগতজীবন বাবাজী। এছাড়াও আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রাতঃকাল থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত চলবে অহোরাত্র নামসংকীর্তন।এই নামসংকীর্তনে কীর্তনীয়া দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন শ্রীভূমি জেলার মদন মোহন সম্প্রদায়,কাছাড় জেলার শিলচরের প্রাণ গোবিন্দ সম্প্রদায়,সুদূর কলকাতা থেকে আগত নবসখী সম্প্রদায়,শিলচরের নিতাই দয়াল সম্প্রদায়, নবদ্বীপের রাধারানি সম্প্রদায়, উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের রাধাকানাই সম্প্রদায়,শিলচরের সাধুসঙ্গ সম্প্রদায় সহ আরও একাধিক খ্যাতনামা কীর্তনীয়া দল।উল্লেখযোগ্যভাবে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার প্রভাতে নগর পরিক্রমা শেষে পূর্ণা কীর্তন ও মহন্ত বিদায়ের মাধ্যমে এই সংকল্পিত ৩২ প্রহর হরিনাম সংকীর্তনের শুভ সমাপ্তি ঘটবে। সমাপ্তি দিবসে উপস্থিত সকল ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি কীর্তন চলাকালীন সময়ে ভক্তদের জন্য মহাপ্রভুর ভোগের থালিও উপলব্ধ থাকবে।এই মহান ধর্মীয় আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে বাজারিছড়া তথা গোটা পাথারকান্দি এলাকার সকল ভক্তপ্রাণ সনাতনী হিন্দু সমাজের মানুষের উপস্থিতি, সহযোগিতা ও আশীর্বাদ একান্তভাবে কামনা করেছেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
বাজারিছড়া সর্বজনীন ৩২ প্রহর ভুবনমঙ্গল হরিনাম সংকীর্তন ৩ ফেব্রুয়ারি, প্রস্তুতি তুঙ্গে



