১ মার্চ : আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী কে হবেন, সকাল থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উঠে আসছে। সেই আবহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ইরান। পাকাপাকি ভাবে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করার আগে, দেশের অন্তর্বর্তী সর্বোচ্চ শাসকের দায়িত্ব দেওয়া হল আয়াতোল্লা আরাফিকে।
আয়াতোল্লা আরাফির পুরো নাম আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি। জন্ম ১৯৫৯ সালে। ইরানে যে সেমিনারি সিস্টেম রয়েছে, তার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ধর্মগুরু তিনি। গার্ডিয়ান কাউন্সিল এবং অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস-এর সদস্যও। তাঁকে খামেনেইয়ের জায়গায় বসানোর অর্থ, ধর্মগুরুদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন কূটনীতিকরা।
আয়াতোল্লা আরাফি সম্পর্কে সেভাবে ওয়াকিবহাল নয় বহির্বিশ্ব। তবে ইরানের দেশের ধর্মীয় ব্যবস্থায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে যেমন, তেমনই খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত বলেও পরিচিত ছিলেন। যে গার্ডিয়ান কাউন্সিল এবং অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস-এর সদস্য আয়াতোল্লা আরাফি, তারাই নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করে। দেশের সংসদে আইন পাস করানোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাদের।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভি জানিয়েছেন, আয়াতোল্লা আরাফির হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিতে দু’বার ভাবেননি খামেনেই। আয়াতোল্লা আরাফির দক্ষতা এবং যোগ্য়তার উপর পূর্ণ আস্থা ছিল তাঁর। রাজনৈতিক ভাবে তেমন ‘হেভিওয়েট’ নন আরাফি। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও তেমন দহরম মহরম নেই তাঁর। তবে আরবী এবং ইংরেজি ভাষা, প্রযুক্তিগত ভাবে দক্ষ, ২৪টি বই এবং অসংখ্য লেখালেখির দরুণ আরাফির সুনাম রয়েছে বেশ।
ইরানের সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে থাকেন প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রধান ধর্মগুরু। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানে যে প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটতে চলছে, তাতে নেতৃত্ব দেবে ওই কাউন্সিল। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাকাপাকি ভাবে খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন আয়াতোল্লা আরাফি।



