বরাক তরঙ্গ, ৫ ফেব্রুয়ারি : শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার সংরক্ষণ এবং সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অসম সরকার কর্তৃক গ্রহণ করা ৯০ দিবসীয় রাজ্যব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি “সুরক্ষিত শৈশব, সোনালি অসম”–এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি জেলা আয়ুক্ত কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট, শ্রীভূমির উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক অন্বেষা খেরসা। বর্তমান সমাজে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ, অবহেলা ও শোষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন, নীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ আধিকারিক ও মহিলা পুলিশ কনস্টেবলদের আরও সংবেদনশীল ও সচেতন করে তুলতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার পুলিশ অফিসার এবং ওম্যান পুলিশ কনস্টেবলদের শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও জটিল বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রদানই ছিল এই সচেতনতা সভার মূল উদ্দেশ্য।
সভায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু কল্যাণ সমিতি বা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান বিশ্ববরণ বরুয়া এবং শিশু সুরক্ষা বিষয়ে অভিজ্ঞ রিসোর্স পার্সন সত্যজিৎ দাস। তাঁরা উপস্থিত পুলিশ আধিকারিক ও মহিলা কনস্টেবলদের উদ্দেশ্যে শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত ও তথ্যবহুল আলোচনা করেন। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় শিশু পাচার প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত দায়িত্বের ওপর। বক্তারা জানান, শিশু পাচার একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ এবং এটি রোধে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়, দ্রুত তদন্ত এবং সময়োচিত উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি শিশু শ্রম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বাস্তব প্রয়োগের দিকগুলো ব্যাখ্যা করা হয় এবং শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাল্য বিবাহ রোধ প্রসঙ্গেও বিশদ আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের পথে বড় অন্তরায়। এই সামাজিক ব্যাধি রোধে পুলিশ বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এছাড়াও আইনসম্মত পদ্ধতিতে শিশু দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করা হয় এবং অবৈধ দত্তক প্রক্রিয়া থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভায় শিশুদের জন্য চালু থাকা জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮ এর গুরুত্ব ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করা হয়। বক্তারা জানান, যে কোন শিশু বিপদের সম্মুখীন হলে অথবা শিশু নির্যাতনের কোন ঘটনা নজরে এলে ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিশু দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল চাইল্ড অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি (CARA)–র ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক অন্বেষা খেরসা বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য। তিনি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও মহিলা পুলিশ কনস্টেবলদের শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের সচেতনতা সভা পুলিশ কর্মীদের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা শিশু সুরক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তা দেবযানী দাসসহ অন্যান্য কর্মীবৃন্দ। উপস্থিত সকলেই এই ধরনের সচেতনতা কার্যসূচির প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও শিশু সুরক্ষার স্বার্থে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



