মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ জানুয়ারি : অসম–ত্রিপুরা ৮ নম্বর জাতীয় সড়কে ডাম্পারের পেছনে অটোর ধাক্কায় আহত হলেন চারযাত্রী। শনিবার দুপুরে লোয়াইরপোয়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। গুরুতর আহত হন চারজন যাত্রীর মধ্যে রয়েছে দুই শিশুও।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চুরাইবাড়ি থেকে পাথারকান্দি অভিমুখে যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া গতির ডাম্পার লরি হঠাৎ সজোরে ব্রেক কষলে পেছনে থাকা যাত্রীবাহী অটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ডাম্পারের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে অটোটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ডাম্পার লরিটির নম্বর TR-01-AV-1743 এবং অটোর নম্বর AS-10-BC-1895 বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত হন—বর্ণালী দাস (২২), শান্তনা দাস (৩০), অর্ণব দাস (১০) ও বুদ্ধ দাস (১০)। আহত চারজনই লোয়াইরপোয়া জিপির অন্তর্গত কড়িখাই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মানুষজন ও পথচারীরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং তড়িঘড়ি করে তাদের বাজারিছড়ার মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান লেপ্রসি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা বর্ণালী দাস ও শিশু অর্ণব দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, শান্তনা দাস ও শিশু বুদ্ধ দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ডাম্পার লরির বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনগণ কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদে সোচ্চার হন, যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাজারিছড়া থানার পুলিশ। পুলিশের আশ্বাস ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার পর অবশেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পাথারকান্দি সার্কল অফিসার অদিতি নুনিসাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় জনগণ তার হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দিয়ে ওই সড়ক দিয়ে ডাম্পার চলাচলের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানান।



