বরাক তরঙ্গ, ২ মার্চ : পূর্ব সোনাইর নতুন রামনগর ১ম খণ্ড গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য পারিবারিক মনোমালিন্য ও মায়ের শাসনে অভিমানে এক কিশোর চরমপন্থা বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ গরু চরাতে যাওয়া স্থানীয়দের নজরে পড়ে একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত কিশোরের দেহ। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়—সে নতুন রামনগর ১ম খণ্ডের বাসিন্দা তাজিম উদ্দিন বড়ভূইয়ার দ্বিতীয় ছেলে সাজ্জাদ নুর বড়ভূইয়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই সাজ্জাদ নিখোঁজ ছিল। মা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে তার ১০ বছর বয়সী ছোট ছেলে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হলে সাজ্জাদ তাকে বাধা দিয়ে সাইকেলটি নিতে যায়। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মা এগিয়ে এসে দু’জনকে আলাদা করেন এবং বড় ছেলে সাজ্জাদকে সামান্য শাসন করেন। এরপর ছোট ছেলে সাইকেল নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরলেও সাজ্জাদ আর বাড়ি ফেরেনি।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও এবং ইফতার সম্পন্ন হলেও সাজ্জাদের কোনও খোঁজ মেলেনি। মা প্রথমে ভেবেছিলেন, আগের মতো হয়তো সে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে আছে। রাতের দিকে দিনমজুর বাবা তাজিম উদ্দিন বাড়ি ফিরে ছেলের খোঁজ করলে মা জানান, হয়তো সে সঙ্গীদের সঙ্গে কোথাও গেছে বা নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছে। ফলে পরিবার সেভাবে আর খোঁজাখুঁজি না করে রাত কাটিয়ে দেয়।
তাজিম উদ্দিন জানান, তিনি একটি বেকারিতে কাজ করেন। আগের দিন সাজ্জাদ তাকে বলেছিল, সোমবার থেকে তার পরীক্ষা শুরু হবে। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, দরজা আগের মতোই বন্ধ। ভেবেছিলেন, হয়তো ভাইয়ের ঘরে গিয়ে শুয়েছে। পরে তিনি যথারীতি কাজে চলে যান। সকাল ৮টার দিকে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে মর্মান্তিক খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। খবর পেয়ে সোনাই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে। ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জলি কুমারীর উপস্থিতিতে প্রাথমিক তদন্তের পর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



