গঙ্গাসাগরে এসেছেন মৌনীবাবা থেকে অঘোরীবাবা, বাড়তি নিরাপত্তায় প্রশাসন

Spread the news

১৪ জানুয়ারি : শাস্ত্রমতে মকর সংক্রান্তির দিন সূর্য নিজের কক্ষপথ বদল করে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সেই কারণে দিনটি মকর সংক্রান্তি হিসেবে পরিচিতি। হিন্দুদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অসীম। পুণ্যলাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে দলে দলে মানুষ এই দিন সাগরে স্নান করতে ছুটে আসেন। মনোবাঞ্ছা পূরণের ইচ্ছে জানান সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে। ধনী-গরিবের আর্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। জন্ম নেয় এক রূপকথার। গঙ্গাসাগর হয়ে ওঠে মানুষে মানুষে বন্ধনের স্থল। আনন্দ উদযাপনের স্থল। এবছর বুধবার ১টা ১৯ মিনিট থেকে শুরু হবে পু্ণ্যস্নান। চলবে পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে পুণ্যস্নানের প্রক্রিয়া। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাগরপাড়ে ভিড় জমাবেন বিভিন্ন সাধকরা।

এ বছর কুম্ভমেলা নেই। তাই গঙ্গাসাগরে এসেছেন এক ‘মৌনীবাবা’। এই নামেই সবাই ডাকছেন তাঁকে। সাত বছর ধরে মৌনব্রত পালন করছেন এই সাধক। এক সময় খুবই কথা বলতেন মৌনীবাবা। আর বেশি কথা যে কোনও সাধকের আধ্যাত্মিক চেতনার উন্নতির পথে বাধা। গুরু অজয় ভারতী বারো বছর মৌন থাকার নির্দেশ দেন। গুরু আজ্ঞা পালন ব্রতী হন তিনি। তারপর থেকেই গুরুর আদেশ শিরোধার্য করে বছরের পর বছর পালন করে চলেছেন মৌনীবাবা। প্রায় ৭ বছর হতে চলল তিনি কথা বলা বন্ধ করেছেন। অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছেন গুরুর আদেশ। আর গুরুর আদেশ পালন করেই তিনি হয়ে উঠেছেন সকলের কাছে মৌনীবাবা।

গুরু আজ্ঞা পূরণ হতে এখনও পাঁচ বছর দেরি। কিন্তু মৌনীবাবার নিষ্ঠার কোনও খামতি নেই। কারণ ‘গুরুই ব্রহ্মা গুরুই বিষ্ণু’। ‘গুরুর আদেশ বিনে জ্ঞান লাভ সম্ভব নয়’। পাঁচবছর পর মৌনব্রত পূর্ণ হলে কী করবেন, প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর কাছে। তিনি বলেন, ‘মুঝে মৌন আচ্ছা লগতা হ্যায়।‘  বাবুঘাট সংলগ্ন গঙ্গাসাগর ট্রানজিট ক্যাম্পে বসে জানালেন মৌনীবাবা। সামনে পবিত্র ধুনি। হালকা হালকা ধোঁয়া। আঁচ ঢিমে হলেই তাতে কাঠ জোগাচ্ছেন শিষ্য হনুমান গিরি। তুষার ঘেরা কেদারধাম থেকে যমুনা বিধৌত বৃন্দাবন ধাম সর্বত্রই বাবার ছায়াসঙ্গী হলেন হনুমান গিরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *