বরাক তরঙ্গ, ২৪ জানুয়ারি : কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’টি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। একদিকে জাল চিঠি ছড়ানোর অভিযোগ, অন্যদিকে অসমে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর পদবী নিয়ে চরম বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ব্যানার, এই দুই ঘটনাই প্রশাসনিক গাফিলতি, ভুয়ো তথ্য প্রচার এবং সাংবিধানিক পদমর্যাদার প্রতি অবহেলার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সর্বানন্দ সোনোয়ালের দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, সামাজিক মাধ্যমে ও জনপরিসরে যে একটি চিঠি ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ জাল। ওই চিঠিতে নাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। মন্ত্রীর দফতরের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচেষ্টা, যার উদ্দেশ্য একজন প্রবীণ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো। এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং কে বা কারা এই জাল চিঠি তৈরি ও প্রচার করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমকে শুধুমাত্র যাচাই করা ও সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে মন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটি ঘটনা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। ডিব্রুগড় জেলায় অ্যামট্রন কার্যালয়ে আধার সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙানো একটি স্বাগত ব্যানারে সর্বানন্দ সোনোয়ালকে ‘জলপথ মন্ত্রীর সচিব, অসম’ বলে উল্লেখ করা হয়। বাস্তবে তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এই ধরনের ভুল পরিচয় প্রশাসনিক প্রোটোকলের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকেই। বিতর্ক এখানেই থামেনি। সর্বানন্দ সোনোয়ালের নামের অসমিয়া বানানেও নাকি ভুল ছিল। একটি সরকারি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিচয় ও পদবী নিয়ে এমন ভুল প্রশাসনিক প্রস্তুতির মান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ডিব্রুগড় পুর নিগমের মেয়র ডা. সাকেত পাত্র এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘গতকাল ডিব্রুগড়ে আধার সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন উপলক্ষে যে ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে জলপথ মন্ত্রীর সচিব হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য বিদ্যুৎমন্ত্রী প্রশান্ত ফুকনের দফতরও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর ভুল। বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত এবং যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’
ঘটনাটি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু নাগরিক, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সমাজকর্মী একে ‘প্রশাসনিক অবহেলা’ এবং ‘সাংবিধানিক পদমর্যাদার অবমাননা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন ভুল শুধু লজ্জাজনকই নয়, সরকারের প্রোটোকল ও প্রস্তুতির দুর্বলতাও প্রকাশ করে। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজকদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশ সামনে আসেনি। কীভাবে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এমন একাধিক ভুল থেকে গেল, তা নিয়েও প্রশাসনের নীরবতা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
পরপর দুই বিতর্কে পড়ে সর্বানন্দ সোনোয়াল আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে জাল নথি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ, অন্যদিকে সরকারি অনুষ্ঠানে প্রোটোকল ভঙ্গ, দুই ঘটনাই প্রশাসনিক সতর্কতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।



