মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ এপ্রিল : উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শাসক দল বিজেপির প্রার্থী সুব্রত ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই গড়ে তুলতে কংগ্রেস প্রার্থী জাকারিয়া আহমেদ পালা মাঠে নেমেছেন পূর্ণোদ্যমে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন প্রচার, দলীয় কর্মসূচি এবং ব্যাপক জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই ব্যস্ততা বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, যেখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দিতে রাজি নয়। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে জাকারিয়া আহমেদ পালা গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি—উত্তর করিমগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। তিনি সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন অভাব-অভিযোগ ও দৈনন্দিন সমস্যার কথা। দলীয় সূত্রে দাবি, এই প্রচারে সাধারণ মানুষের সাড়া ক্রমশ বাড়ছে এবং সমর্থনও জোরদার হচ্ছে।

জনসংযোগ চলাকালীন বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙাচোরা রাস্তা, অবকাঠামোর দুরবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট, বিদ্যুৎ পরিষেবার অনিয়ম, স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব এবং বেকারত্বের সমস্যা বিদ্যমান। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার বাস্তব প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়েনি বলেই অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
এই প্রেক্ষাপটে জনসংযোগের মাঝেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেস প্রার্থী। জাকারিয়া আহমেদ পালা বলেন, “বর্তমান সরকার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি। উন্নয়নের নামে প্রচার বেশি, কাজ কম।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বেকারত্ব বাড়ছে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না এবং সাধারণ মানুষ মৌলিক পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত।

এদিকে, এলাকার চায়ের দোকান, বাজার ও জনবহুল স্থানে নির্বাচনী আলোচনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, এবারের নির্বাচন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। আবার কেউ কেউ উন্নয়নের বাস্তব চিত্র বিবেচনা করেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চান।
উত্তর করিমগঞ্জের এই লড়াই দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রত্যাশার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। এখন শুধু অপেক্ষা ৯ এপ্রিলের রায়ের।



