৩ ফেব্রুয়ারি : সারা ভারত কৃষক সভার জাতীয় পরিষদের তিনদিনব্যাপী সভা ৩০ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের গুনটুর শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সূচনায় সর্বভারতীয় সভাপতি ও কৃষক নেতা অশোক ধাওয়ালে কৃষক সভার লাল পতাকা উত্তোলন করেন। কৃষক আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন সাংসদ ও কৃষক নেতা আমরা রাম। উপস্থিত সকল সদস্য পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
সভায় অসম থেকে নির্বাচিত চারজন পরিষদ সদস্য—টিকেন দাস, রেজামন্দ আলি বড়ভূইয়া, করুণা কলিতা ও হাসিম আলি উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক বিজু কিষ্ণণের উত্থাপিত সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অসমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কৃষকদের সমস্যা ও আন্দোলন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন রেজামন্দ আলি বড়ভূইয়া।
তিনি বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিদ্বেষমূলক, ঘৃণামূলক ও অসাংবিধানিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিভাজনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের হয়রানি, বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্পোরেট স্বার্থে সংগঠিত উচ্ছেদ অভিযান, সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ছয় জনগোষ্ঠী—তাই আহোম, কোচ রাজবংশী, মরাণ, মটক, চুটিয়া ও চা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি, ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও সংগ্রহে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব, রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, প্রায় দুই লক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র উদ্যোগ পুনরুজ্জীবনে সরকারের ব্যর্থতা এবং সর্বব্যাপী দুর্নীতির বিষয়গুলি তুলে ধরেন।
এছাড়াও তিনি রাজ্য কৃষক সভার উদ্যোগে জমির পাট্টা প্রদান, কৃষক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিশ্চিতকরণ, এমএনরেগা আইন পুনর্বহালের দাবি সহ কৃষক সমস্যার সমাধানে সংগঠিত বিভিন্ন আন্দোলনের তথ্য সভায় উপস্থাপন করেন। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন হাসিম আলি। সভায় মোট ৪৫ জন সদস্য রাজনৈতিক প্রস্তাবের ওপর এবং ২৮ জন সদস্য সাংগঠনিক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। আসামে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে এসআইআরের অজুহাতে সংখ্যালঘুদের নাম কর্তন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এছাড়া কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষক ও শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করা, স্থানীয় সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলা, ১২ ফেব্রুয়ারি শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির আহ্বানে সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘট সফল করা, প্রতিটি গ্রামে কৃষক সভা গড়ে তোলা এবং মহিলা ও যুবকদের কৃষক সভায় সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করে সংগঠনকে দৃঢ়ভাবে সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানানো হয়।



