বরাক তরঙ্গ, ১৭ ফেব্রুয়ারি : আজ অসম বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ব্যয়ের লেখানুদান পেশ করেছে অসম সরকার। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ এই লেখানুদান উপস্থাপন করেন। চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ব্যয়ের লেখানুদান পেশ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর ভাষণে গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, ১ লক্ষ ৫৮ হাজার নিয়োগ থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল থেকে ৫টি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং মাথাপিছু আয় ৮৬,৯৪৭ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৫,৪২৯ টাকায় পৌঁছানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
শিক্ষা খাতে লেখানুদানে জানানো হয়েছে—যোগ্য শিক্ষক ও টিউটরদের চাকরি প্রাদেশিকীকরণ করা হবে,
অপ্রাদেশিকীকৃত শিক্ষক ও টিউটরদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, চাকরি প্রাদেশিকীকরণের জন্য একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হবে। নগাঁও, ডিফু, উমরাংসু, মাজুলি ও মানাহতে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে
গুয়াহাটি থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত এক্সপ্রেস করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘চিকেন নেক’ এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ৮টি কার্যকরী সেতু রয়েছে এবং আরও ৪টি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। আগে ৩টি সেতু থাকলেও এখন মোট ১২টি সেতু নির্মাণ বা নির্মাণাধীন হয়েছে। শীঘ্রই নামনি কপিলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হবে। আগামী ৫ বছরে ১,০০০ মেগাওয়াট সবুজ শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মার্চ মাস থেকে চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলিকে ভূমির পট্টা প্রদান শুরু হবে, প্রায় ৩.৫০ লক্ষ চা শ্রমিক পরিবার ভূমির অধিকার পাবে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজস্ব নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৫ বছরে রাজ্যের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে
২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে কর রাজস্ব হয়েছে ৩০,০৫২ কোটি টাকা। রাজ্যের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর নির্ভরতা কমেছে। গত ১০ বছরে মূলধনী ব্যয় ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজেটের মূলধনী ব্যয়ের ব্যবহার ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে রাজ্যের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৮৪ হাজার কোটি টাকা, যা GSDP-এর ২৫.৫২ শতাংশ।
ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ বলেন,
“২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের বিকাশের হার ১৬.৯৩ শতাংশ হবে। GSDP ৮.৭১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। ২০২৮ সালের মধ্যে অসমকে ১০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।”
এছাড়া ‘নিযুত মইনা’ ও মুখ্যমন্ত্রীর ‘নিযুত বাবু’ প্রকল্প চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাসিক ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।



