পাথারকান্দির পুতনি বাগানে হিন্দু সম্মেলনে বিপুল ভক্তসমাগম

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২ ফেব্রুয়ারি : ধর্মীয় আস্থা, সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং চিরায়ত ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে রবিবার পাথারকান্দির পুতনি চা বাগানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য হিন্দু সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকেই পুতনি চা বাগান এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও অঞ্চল থেকে অগণিত ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক মহামিলনক্ষেত্রে। পুতনি চা বাগানস্থিত খেলার মাঠে আয়োজিত এই হিন্দু সম্মেলনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ধর্মসভা, জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ক আলোচনা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে হিন্দু সমাজের ঐক্য, সহনশীলতা, সংস্কৃতি ও মানবিক দায়িত্ববোধ রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয় এই সম্মেলনের মাধ্যমে।অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, ভোর সকাল সাত ঘটিকায় পবিত্র কলস যাত্রার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়।

কলস যাত্রায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভক্তদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও ভাবগম্ভীর ও ধর্মীয় আবহে ভরিয়ে তোলে। সকাল আটটা অনুষ্ঠিত হয় ধ্বজোত্তোলন এবং সাড়ে আট ঘটিকায় পুরোহিত বরণ অনুষ্ঠান।এরপর সকাল নয়টা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত গোমাতা পূজন, ভারতমাতা পূজন এবং বিশ্বশান্তি যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। এই যজ্ঞে বিশ্বমানবতার কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পৌনে বারোটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে অতিথি বরণ ও পরিচয় পর্ব, যেখানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে সম্মান জানানো হয়।দুপুর সওয়া বারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মূল ধর্মসভা। ধর্মসভায় বিভিন্ন ধর্মগুরু ও বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং সংস্কৃতির গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তাঁদের বক্তব্য ভক্তদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।

ধর্মসভা শেষে বিকাল পৌনে তিনটে থেকে উপস্থিত সকল ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। এরপর বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।সার্বিকভাবে বলা যায়, পাথারকান্দির পুতনি বাগানে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলন ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও সমাজে ঐক্য, শান্তি ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত ভক্ত ও অতিথিবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *