অমরচাঁদ- কমলাক্ষকে সঙ্গে নিয়েই বিহাড়া মডেল হাসপাতালের উদ্বোধন করেন রাজ্যসভার সাংসদ
বরাক তরঙ্গ, ৭ মার্চ : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে শনিবার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিহাড়া মডেল হাসপাতালের উদ্বোধন করেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, কাটিগড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অমর চাঁদ জৈন সহ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
নবনির্মিত হাসপাতালটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থ সমাজ এক সমৃদ্ধশালী জাতির মূল ভিত্তি। সাংসদের কথায়,একটি জাতির সমৃদ্ধি শুধু অর্থনীতি বা পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর নির্ভর করে।সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। ২০১৪ সালের আগে এমবিবিএস আসন ছিল মাত্র ৫১৩৪৮। বর্তমানে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজারে। একই ভাবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা মাত্র চারটি। বর্তমানে মেডিক্যালের সংখ্যা ১২। চলতি অর্থ বছরে সেই সংখ্যা ২১ গিয়ে দাঁড়াবে।
একই ভাবে দেশের কোনও পরিবার যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সংকটের মুখে না পড়েন, সেজন্য আয়ু্ষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্র জন আরোগ্য যোজনা, হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার স্থাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচির অধীনে জেলায় জেলায় মেডিক্যাল কলেজ, মডেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় এসেছেন ৫০ কোটি লোক। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরিষেবা বাবত পাঁচ লক্ষ টাকা বিমা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। আজকের দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের অধীনে গ্রাম গ্রামান্তরে গড়ে উঠছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। কোভিড কালে তদানীন্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উদ্যোগে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়। কোভিড মোকাবিলায় হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল। আজকের দিনে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উদ্যোগেই আজ বিহাড়ায় নির্মিত মডেল হাসপাতালের উদ্বোধন হল। এই হাসপাতাল নির্মাণে কাটিগড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন এবং উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের গণদাবির প্রসঙ্গ টেনে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলাই শেষ কথা নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবাও নিশ্চিত করতে হবে। এবিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের সচেষ্ট ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে সাংসদ আরও বলেন, মডেল হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন গুলোর রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও আবশ্যক। যাতে ভবন পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকে। নাহলে রোগ সারানোর বদলে রোগের আখড়া হয়ে যাবে হাসপাতালটি।

এর আগে বক্তব্য প্রসঙ্গে উত্তর শ্রীভূমির বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়নে জোয়ার বইছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। কিন্তু কাটিগড়ার বর্তমান বিধায়কের উদাসীনতায় বিহাড়া মডেল হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেনি। ভবন নির্মাণ হলেও বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালটি চালু হচ্ছিল না। এই অঞ্চল জনসংযোগ করতে গেলে স্থানীয়রা হাসপাতালটির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এরপর বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সকাশে যান তিনি। এরপরই হাসপাতালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করতে ৪৮.৪৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন মডেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ। এপ্রসঙ্গে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ অকপটে উল্লেখ করেন যে কাটিগড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অমরচাঁদ জৈনের প্রচেষ্টায় হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু একুশ সাল থেকে কাটিগড়ায় শাসক দলের বিধায়ক না থাকায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। প্রসঙ্গক্রমে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ আরও জানান যে বৃহত্তর বিহাড়া এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং এবং যুধিষ্ঠির সাহা স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। এছাড়াও কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রে আরও দুটি আরোগ্য কেন্দ্র নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগন্তুক বিধানসভা নির্বাচনে কাটিগড়া বিজেপি বিধায়ক নির্বাচনের আহ্বান জানান তিনি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্যে হাসপাতালটির ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন প্রাক্তন বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন। তাঁর আমলেই এই হাসপাতাল নির্মাণে রাজ্যের সর্বানন্দ সানোয়াল সরকার থেকে বরাদ্দ হয় ১০ কোটি টাকা। এরপর ভবন নির্মাণ হলেও নানা কারণে হাসপাতালে পরিষেবা চালু হয়নি। এর আগে প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে হাসপাতালটির পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করেন সমাজকর্মী নিবাস দাস, পঙ্কজ দেব ও স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য পম্পি দাস প্রমুখ। কাটিগড়ার সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকার বলেন, এতদঞ্চলে এধরণের একটি হাসপাতাল অতি আবশ্যক ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হল। সেখানে কিভাবে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন, সেবিষয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা নিয়ে আলোকপাত করেন জেলা যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক।



