কেরলে বাম সংগঠনের গোমাংস উৎসব ঘিরে তীব্র বিতর্ক, প্রতিবাদ মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশন

Spread the news

২১ ফেব্রুয়ারি : নির্বাচনকে সামনে রেখে কেরলে গোমাংস উৎসবের আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিরুঅনন্তপুরম-সহ রাজ্যের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যে গোমাংস ভোজন করতে দেখা যায় বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যদের। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (DYFI)-র কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বাম সংগঠনগুলির এই কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছে মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশন (MSF), যা ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ-এর ছাত্র সংগঠন। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মসূচি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানতে পারে।

জানা গেছে, ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ সিনেমাকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সিনেমার ট্রেলারে একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে যে, এক মুসলিম মহিলাকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানো হচ্ছে। এই দৃশ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)। তাদের অভিযোগ, এই সিনেমার মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ কেরলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বামেদের দাবি, সিনেমায় দেখানো জোরপূর্বক ধর্মান্তর বা গোমাংস খাওয়ানোর ঘটনা কেরলের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই অভিযোগের প্রতিবাদেই বাম সংগঠনগুলি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গোমাংস উৎসবের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে গোমাংসের সঙ্গে রুটি বিতরণ করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়। ব্যানারে লেখা ছিল— “This is the real Kerala story”, অর্থাৎ ‘এটাই কেরলের প্রকৃত চিত্র।’ বাম নেতাদের দাবি, কেরলে গোমাংস একটি জনপ্রিয় খাদ্য এবং মানুষ স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ করেন, এখানে কোনও জোরজবরদস্তির প্রশ্ন নেই।

অন্যদিকে, এই কর্মসূচির বিরোধিতা করে এমএসএফের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সি কে নাজাফ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, এই ধরনের উদ্যোগ হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তিনি বলেন, অনেক হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে গোমাংস গ্রহণ করেন না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা উচিত নয়। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *