ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ, প্রতিক্রিয়া গৌরবের
বরাক তরঙ্গ, ১৮ ফেব্রুয়ারি : মরিগাঁও জেলার লাহরিঘাট থানার অন্তর্গত বরবরিতে একটি সেতু ভেঙে ৪ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে জখম হন। জানা গেছে, বুধবার দিনের ১১টা নাগাদ লালিবিলের ওপরে থাকা আরসিসি সেতুটি মেরামতের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ভেঙে পড়ে যায়। যার ফলে সেতু নির্মাণের কাজে কর্মরত ৪ জন শ্রমিক জখম হয়ে আটকে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় শ্রমিকদের উদ্ধার করে লাহরিঘাট হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতরভাবে জখম হওয়া শ্রমিকদের নাম গুলজার হোসেন, মোস্তফা আহমদ, ইনামুল হক এবং ফারুক আহমেদ বলে জানা গেছে।
এই সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনতা সাংবাদিকদের বলেন , মরিগাঁও ও লাহরিঘাট সংযোগী ব্যস্ততাপূর্ণ পথের ওপর থাকা আরসিসি সেতুটি প্রায় পাঁচ/ছয় বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার কারার পাশাপাশি ব্যাপক দুর্নীতি সংগঠিত করে সেতুটি নির্মাণ করায় ৬ বছর পরেই বৃহৎ ফাটল ধরে। এবং তিন মাস ধরে এই বিপদজনক সেতুটি দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। তার পরেই ঠিকাদারে সেতুটির মেরামতের করার জন্য মধ্যেভাগের অংশটি সম্পূর্ণ ভাঙার কাজ শুরু করেছিল। এই কাজে কোনও ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই বাঁশ এবং কাঠের ব্যবহার করে শ্রমিকরা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করানোর অভিযোগ উত্থাপিত করেন।

উল্লেখ্য, ইসলাম নামের ঠিকাদার প্রথমে সেতুটিতে নিম্নমানের কাজ করার সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর বিভিন্ন অত্যাচার করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন দিয়ে হুমকি দেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এই সেতুটি নির্মাণের সময় সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে লিখিতভাবে জানান। সেই সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ এধরনের দুর্ঘটনা সংঘটিগত হয়। এদিকে, গুরুতরভাবে জখম ৪ শ্রমিকে সঙ্কটজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মরিগাঁও সিভিল হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফেসবুক পেজে সংসদ গৌরব গগৈয়ে পোস্ট করে বলেন, লাহরিঘাট-মরিগাঁও সংযোগী পথে লালিবিলের ওপর নির্মীয়মান সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা অসমের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রচারপ্রিয় সরকার বারবার দাবি করা অসমের পরিকাঠামো উন্নয়নের উল্টো এবং বাস্তব ছবি। যে ছবিটি অসমের উন্নয়ন তথা অসমবাসীর নিরাপত্তায় আঘাত হেনেছে।
“কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা সেতুটি নির্মীয়মান অবস্থাতেই ভেঙে পড়ার ঘটনা অসমের পরিকাঠামো নির্মাণে চলমান দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ আবারও প্রকট করে দিল।
লালিবিলের সেতু নির্মাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যদিকে, অসমের আন্তঃগাথনি উন্নয়নে চলমান অনৈতিক কার্যকলাপের যথাযথ তদন্ত করার জন্য হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে দাবি জানান। আমি ঘটনায় জখম শ্রমিকদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”



