বরাক তরঙ্গ, ১৮ ফেব্রুয়ারি : অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার এক অভিজাত হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতের নির্বাচন কমিশন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি অসমে আসা কমিশনের প্রতিনিধি দল এই সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনী প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
গত দুই দিনে নির্বাচন কমিশনের দলটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক, জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপারদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে। আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের সকল ভোটারকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানায় কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন (SR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। এ বছর অসমে নতুন করে ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ভোটার যুক্ত হয়েছে। ভোটার সংক্রান্ত প্রায় ৫০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সংশোধন প্রক্রিয়ায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এবার রাজ্যে মোট ৩১,৪৮৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে ২৭,৭১১টি গ্রামীণ এলাকায় এবং ৩,৭৭৫টি শহরাঞ্চলে স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৩,৭১৬টি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে ১,২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে পানীয়জল, শৌচাগার, হুইলচেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
যুব ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রতিটি কলেজে AERO-র মাধ্যমে বিশেষ প্রচার অভিযান চালানো হবে। প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ভূমিস্তরে ভোটকেন্দ্র, হুইলচেয়ার সুবিধা এবং হোম ভোটিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। ভোটদানের সময় ভোটারদের মোবাইল ফোন ভোটকেন্দ্রের বাইরে জমা রাখতে হবে। EVM-এ প্রার্থীদের রঙিন ছবি প্রদর্শিত হবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি BLO-কে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে কোনও সমস্যা না হয়। এছাড়া ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্যও সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে নির্বাচনের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প ভোটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভুয়ো খবর থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ঘোষণার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানায়, “বিহু অসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। তাই বিহুর গুরুত্ব বিবেচনা করেই নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে। দিল্লিতে ফিরে বৈঠকের পর খুব শীঘ্রই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই দিন নির্ধারণ করা হবে।”



