১৬ ফেব্রুয়ারি : শেরিনকে ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে শ্রদ্ধা জানাল কেরল সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পাথানামথিত্তা জেলায় পথদুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আলিন। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকেরা তার ‘ব্রেন ডেথ’-এর ঘোষণা করেন। সেই কঠিন মুহূর্তেই আলিনের বাবা অরুণ আব্রাহাম ও মা শেরিন আন জন অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।
আলিনের একাধিক অঙ্গ পাঁচ জনের দেহে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বা হবে। এই মানবিক সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি বলেন, অসীম শোকের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত পাঁচটি পরিবারকে নতুন জীবন দিয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসনও শোকবার্তায় লেখেন, ‘আপনাদের সন্তান এখন পাঁচ জনের মধ্যে বেঁচে থাকবে।‘
রবিবার পাথানামথিত্তার একটি গির্জার বাইরে আলিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কেরল পুলিশ তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী।
দুর্ঘটনার দিন মা ও দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে গাড়িতে ছিল আলিন। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোচিতে নিয়ে যাওয়া হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।
অঙ্গদানের পর কোচি থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরের তিরুঅনন্তপুরমে বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুল্যান্সে অঙ্গ পৌঁছে দেওয়া হয় মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, আলিনের যকৃৎ ছ’মাসের এক শিশুর শরীরে এবং কিডনি ১০ বছরের এক শিশুর দেহে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। শোকের মধ্যেও মানবিকতার এই নজির কেরলবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।



