১৫ ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা শেষে বাংলাদেশে ক্ষমতার মসনদে ফিরছে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান। এই মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। তবে নয়াদিল্লির তরফে এখনও এই সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়নি। ফলে মোদি আগামী মঙ্গলবার ঢাকায় যাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। পালটা সৌজন্য দেখিয়েছে বিএনপি-ও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা আগ্রহী।
তবে কূটনৈতিক মহলে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, চিন, সৌদি আরব সহ মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিএনপি-র সঙ্গে আলোচনার করে এই ১৩টি দেশের তালিকা প্রস্তুত করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ক্ষমতায় ফেরা তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাঁর বিদেশনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশের স্বার্থ’। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে ‘প্রভু’ হিসেবে নয়, বরং ভারত, চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



