বরাক তরঙ্গ, ১৪ ফেব্রুয়ারি : শনিবার খানাপাড়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির অসম প্রদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বুথ বিজয় সংকল্প সভা’য় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভায় তিনি অসমিয়াতেই ভাষণ শুরু করেন এবং ‘জয় আই অসম’ ধ্বনি দিয়ে বক্তব্যের সূচনা করেন। ভাষণের শুরুতেই বিজেপির বুথ পর্যায়ের কর্মীদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসমের বুথ পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা তাঁর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। বুথ পর্যায়ের কর্মীরাই দলের চালিকা শক্তি এবং জনসেবাকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
ভাষণে তিনি অসম বিজেপির পিতামহ হিসেবে পরিচিত কবীন্দ্র পুরকায়স্থকে স্মরণ করেন। পাশাপাশি কংগ্রেসকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস সবসময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব অঞ্চল তাদের কাছে ‘অষ্টলক্ষ্মী’র সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি সরকারের আমলে অসম কংগ্রেসের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এবং প্রায় ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার অনুদান লাভ করেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায় এবং পর্যটন ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্র নদে পর্যটন আরও জোরদার করা হবে। সম্প্রতি মরাণের জাতীয় সড়কে যুদ্ধবিমানের অবতরণকে তিনি অসমের জন্য নতুন ইতিহাস বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন অসমের রাজপথে শুধু গাড়ি নয়, যুদ্ধবিমানও অবতরণ করছে, যা বিজেপি সরকারের উন্নয়নেরই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বুথ কর্মীদের নিজ নিজ বুথের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। এদিন তিনি পুলওয়ামা হামলায় শহীদ জওয়ানদের স্মরণ করেন এবং বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের শক্তি বিশ্ব দেখেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের শাসনামলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল এবং দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ছিল।
তিনি বলেন, গত ৭০ বছরে কংগ্রেস ব্রহ্মপুত্রের উপর মাত্র তিনটি সেতু নির্মাণ করেছে, অথচ গত ১০ বছরে বিজেপি পাঁচটি সেতু নির্মাণ করেছে। কুমার ভাস্কর দেববর্মা সেতুকে তিনি আধুনিক অসমের অবকাঠামোর প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) গুয়াহাটিতে স্থাপন করেছে। এছাড়া 5G প্রযুক্তি উত্তর-পূর্বের গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং যুব সমাজ উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছে। শেষে তিনি বলেন, অসমবাসীর ভালোবাসা তিনি কখনও ভুলবেন না এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে অসমের সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।



