প্রস্তুতি চূড়ান্ত, আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভুবন মেলা

Spread the news

দিলোয়ার বড়ভূইয়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ ফেব্রুয়ারি : শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে বরাক উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী শৈবতীর্থ ভুবনতীর্থে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ভুবন মেলা। ধর্মপ্রাণ ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হতে চলেছে ভুবন পাহাড় চূড়া। ইতিমধ্যে মেলাকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কাছাড় জেলা প্রশাসন ও ভুবনতীর্থ উন্নয়ন ও মেলা পরিচালনা কমিটি। মেলা উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জেলা কমিশনার আয়ুষ গর্গের পৌরোহিত্যে জেলা কমিশনার কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভুবন তীর্থ উন্নয়ন ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সোনাই সার্কল অফিসে দ্বিতীয় দফায় আরও একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ভুবন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ভুবনবাবার মন্দির এবং মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে প্রস্তুতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন। দূরদূরান্ত থেকে আগত পূণ্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ভুবনবাবার মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করতে পারেন, সে জন্য পথনির্দেশ, বিশ্রাম ও নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

ভুবন তীর্থ উন্নয়ন ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোমেন দাশ জানান, শিবরাত্রি উপলক্ষে কৃষ্ণপুর ও মতিনগর—এই দু’টি রাস্তা দিয়ে ভক্তরা পায়ে হেঁটে পাহাড়ে উঠে মন্দিরে পৌঁছাতে পারবেন। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে স্থায়ী শৌচালয়ের। পাশাপাশি অস্থায়ী শৌচালয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুকুরের জল অপবিত্র না করতে ভক্তদের জল তুলে উপরে স্নান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্দিরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরে কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন। মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে সকল ভক্তদের ভুবনবাবার দর্শনের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মেলা চলাকালীন ভিড় সামাল দিতে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। বিশেষ করে যারা আমড়াঘাট, গঙ্গানগর, কৃষ্ণপুর হয়ে ভুবনতীর্থ রোড দিয়ে পাহাড়ে উঠবেন, তাদের সুবিধার্থে দূরপাল্লার যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। গঙ্গানগর প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির স্কুলের মাঠে যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে মূল সড়কে যানজট না সৃষ্টি হয় এবং পূণ্যার্থীরা নিরাপদে পাহাড়ে আরোহন করতে পারেন। স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত মেলার দুই প্রধান পথ—কৃষ্ণপুর ও মতিনগর রাস্তায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ ও শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও অগ্নি নির্বাপক বাহিনী। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সদা প্রস্তুত থাকবে। সব মিলিয়ে ভুবনতীর্থ উন্নয়ন ও মেলা পরিচালনা কমিটি এবং কাছাড় জেলা প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এবারের ভুবন মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধর্মীয় আবহে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে ভুবন মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হবে—এমনটাই আশাবাদ প্রশাসন ও আয়োজকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *