১২ ফেব্রুয়ারি : ওপার বাংলায় অশান্তির দাবানল থামার লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও তার আগের রাত থেকেই বিক্ষিপ্ত গোলমাল ও হত্যাকাণ্ডের খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। এবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকায় এক চা বাগান থেকে রতন শুভ কর (২৮) নামে এক তরুণের হাত-পা বাঁধা এবং ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, নিহত তরুণ স্থানীয় এক চা বাগান শ্রমিকের পুত্র এবং নিজেও ওই পেশার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন রতন। বুধবার সকালে বাগানের নির্জন এলাকায় তাঁর হাত-পা বাঁধা দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে, যা থেকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান— অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
যদিও এই খুনের সঙ্গে সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত হিংসার কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলছে না প্রশাসন। তবে ভোটের ঠিক আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বোমাবাজি, গুলি চালানো এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে তরুণ নেতা ওসমান হাদি এবং পরবর্তীতে দীপুচন্দ্র দাসের খুনের স্মৃতি এখনও টাটকা। দীপুর পরিবারকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা সহায়তার কথা ঘোষণা করা হলেও, বিচার চেয়ে অনড় তাঁরা। রতনের পরিবারের দাবি, তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। ফলে কেন এই হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। নির্বাচনের আবহে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই এদিন চলছে ভোটগ্রহণ।



