জাতীয় সঙ্গীতের ধাঁচেই সম্মান ‘বন্দেমাতরম’কে! নতুন নির্দেশিকা কেন্দ্রের

১১ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় সঙ্গীতের (জনগণমন) ধাঁচেই এবার জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’-এর  জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।  বুধবার সকালে প্রকাশিত এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলে জাতীয় সঙ্গীতের পরেই ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গানটি চলাকালীন উপস্থিত সকল ব্যক্তিকে সসম্মানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

পদ্ম সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান বা রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময়ও গানটি বাজানো হবে। তবে সিনেমা হলে এটি বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের ছেঁটে ফেলা চারটি স্তবক সহ মোট ছয়টি স্তবকই এখন থেকে গাওয়া হবে।

জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা বিরোধী আইনের আওতায় এখন থেকে ‘বন্দেমাতরম’-কেও আনা হচ্ছে। এর ফলে গানটিতে বাধা দিলে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালে জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানের স্তবকগুলো বাদ দিয়েছিল। তিনি নাকি এক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার পথ অনুসরণ করেছিলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশভাগের বীজ’ বলে কটাক্ষও করেন তিনি। পালটা তোপ দেগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিজেপি ও আরএসএস-এর জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই আবহে কেন্দ্রের এই নয়া নির্দেশিকা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণের বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *