মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : শ্রীভূমি সদর সার্কল অফিসের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শ্রীভূমি জেলার আয়লাবাড়ি ও জালালনগর এই দুই চা-বাগানে যৌথভাবে প্রায় ৫০০টি আবেদনপত্র বিতরণ করা হয়েছে। চা-বাগান এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে, বিনামূল্যে জমির পাট্টা প্রদানের উদ্দেশ্যেই এই আবেদনপত্রগুলি বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে চা-বাগান শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারবর্গের বসবাসজনিত জমির আইনি স্বীকৃতি প্রদানের পথে প্রশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বহু বছর ধরে চা-বাগান এলাকার মানুষ জমির পাট্টা সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি সদর সার্কেলের সার্কেল অফিসার জাগৃতি কালওয়ার, প্রাক্তন শ্রীভূমি জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, সংশ্লিষ্ট চা-বাগানগুলির ব্যবস্থাপকবৃন্দ সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি আরও তাৎপর্য লাভ করে। বক্তারা জানান, চা-বাগান শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে এই পাট্টা প্রদানের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁরা আবেদনকারীদের নির্ভুল ও সঠিকভাবে আবেদনপত্র পূরণ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনও রকম জটিলতার সৃষ্টি না হয়।
এছাড়াও চা-বাগান এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে যে, পূরণকৃত আবেদনপত্রের সঙ্গে আধার কার্ডের অনুলিপি সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। এই প্রশাসনিক উদ্যোগে চা-বাগান এলাকার মানুষদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে, নিজেদের বসতভিটের উপর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বুক বাঁধছেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রশাসনের এই মানবিক ও জনমুখী উদ্যোগ চা-বাগান এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন সকলে।



