সরকার গঠনের পর নয়া করে সংঘর্ষ বাধছে মণিপরে

বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের পর মণিপুর-এ গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে এখনও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। চুড়াচাঁদপুরের পর রবিবার উখরুল জেলায় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়ি জেলার একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় লাইথন গ্রামে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন লাইথন এলাকায় ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

জানা গেছে, লাইথন গ্রামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুধু পাথর নিক্ষেপই নয়, সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক দফা গুলিচালনার ঘটনাও ঘটেছে। এরপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা যায়, লাইথন গ্রামের টাংখুল সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে ৭-৮ জন মিলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে বিষয়টি ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গ্রামপ্রধানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং উভয় পক্ষই সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু পরে ছিকিবুঙ এলাকা থেকে আসা একদল গ্রামবাসী লাইথনের এক প্রবীণের বাড়িতে হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, হামলাকারীরা একাধিকবার গুলি চালায়, যার জেরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। অপর পক্ষ প্রতিশোধ হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উখরুল জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিস দাস সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, অশান্ত পরিস্থিতিতে কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনও ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *