মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ ফেব্রুয়ারি : আগাম ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি সমজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয় বহুল আলোচিত বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা সরকারি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি পুনরুদ্ধারে ভোর থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ।
অভিযানে প্রায় ৫০টি বুলডোজার ও হাতি নামানো হয়। প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাথারকান্দি এলাকায় এটি অন্যতম বৃহত্তম উচ্ছেদ অভিযান। রবিবার পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন মধুরবন্দ, খিলরবন্দ, উত্তর গোপালপুর, বরতল, দুয়ালদোম, করিমগঞ্জ বিল, ইছারপার, মাধবপুর, বালিয়া, ছাগলমোয়া, মাগুরা, যোগীছড়া ও উত্তর ছলামনসহ একাধিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমিতে একযোগে অভিযান চালানো হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দোহালিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধুরবন্দ, উত্তর গোপালপুর, খিলরবন্দ ও বড়থল এলাকায় প্রায় ৩৫০টি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছিল। এছাড়া লোয়াইরপোয়ার বাদশাহী রিজার্ভ, পূর্ব বাজারি ও লঙ্গাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মোট ১৫টি গ্রামের প্রায় ৪২০টি পরিবার এই অভিযানের আওতায় পড়েছে।
রবিবার শুরু হওয়া এই অভিযান টানা তিনদিন—রবি, সোম ও মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বন বিভাগের দাবি, গুগল ম্যাপ, জিপিএস প্রযুক্তি এবং সরকারি নথিপত্র যাচাই করেই অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএফও, এসিএফ, রেঞ্জ অফিসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ বাহিনী, বিএসএফ, কমান্ডো বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও বিশেষ প্রোটেকশন টিম মোতায়েন করা হয়। তবে উচ্ছেদস্থলে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযানে অবৈধ বসতবাড়ির পাশাপাশি রবার বাগান, সুপারি বাগান ও মাছের ফিশারিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও নোটিশ পাওয়ার পর বহু পরিবার আগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। বন বিভাগের ডিএফও অমল আর বরহাদি জানান, এই অভিযানের ফলে প্রায় তিন হাজার বিঘা সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত হবে।

এদিকে, উচ্ছেদের মাঝেই অভিযোগ উঠেছে, একটি অসৎ চক্র রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কিছু পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। উচ্ছেদের ফলে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের কারণে ওই জমির উপর তাদের অধিকার রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার ও সামাজিক মহল।
সব মিলিয়ে, পাথারকান্দির বনাঞ্চলে এই উচ্ছেদ অভিযান একদিকে সরকারি জমি উদ্ধার ও বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে বহু পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দেওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়।



