সাময়িক বরখাস্ত বিএলও সুমানা রহমান চৌধুরী

বরাক তরঙ্গ, ৮ ফেব্রুয়ারি : অবশেষে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হলেন ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের আবেদনের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে এনে মহিলা বিএলও সুমানা রহমান চৌধুরী। শ্রীভূমি জেলার বিএলও সুমনা চৌধুরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষিকা সুমনা রহমান চৌধুরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন জেলা কমিশনার তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক।

উল্লেখ্য, জেলার চৌধুরী বাজার প্রাথমিক স্কুলের ভোট কেন্দ্রে ১৩৩ জন জীবিত ভোটারকে মৃত বলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেলিম আহমেদ নামের এক ব্যক্তির জাল স্বাক্ষর করে ৭ নম্বর ফরম জমা পড়ে। ওই এলাকার বিএলও সুমনা রহমান চৌধুরী তা গত ২১ জানুয়ারি ফাঁস করে দিয়ে জানান এই নামগুলি কর্তন করতে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করছে নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয়ের কর্মচারীরা। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন বিএলও তাদের এরকম কাণ্ড ঘটছে বলে জানান। পরদিন সেলিম আহমেদ জেলা কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে জানান তিনি কারোর বিরুদ্ধে ৭নম্বর ফরমে অভিযোগ করেননি। তাঁর স্বাক্ষর কে বা কারা জাল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সেলিম। এরপরই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ভোট চুরির একের পর এক ঘটনা সামনে আসতে থাকে। এর বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেন। বিরোধীরা মাঠে নামে। কিন্তু জনসমক্ষে এই ঘটনা বলতে গেলেন কেন? এর জবাব চেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি সুমনাসহ বাকি বিএলওকে শোকজ করে করেন নির্বাচন আধিকারিক। ২৭ জানুয়ারি পাঁচ বিএলও একসঙ্গে তাদের শোকজের জবাব জেলা নির্বাচন আধিকারিকের হাতে তুলে দেন। কিন্তু এর পর বিএলওদের জবাব সন্তোষজনক কিনা, তা জানতে বিএলওদের ডেকে আর শুনানি গ্রহণ করেননি নির্বাচন আধিকারিক। এর বদলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুমনা চৌধুরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা কমিশনার।

জানা গেছে, সুমনা চৌধুরীকে বরখাস্তের করার পেছনে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা, কর্তব্যে অবহেলা করা, ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়ার নির্দেশ অমান্য করা, কাজের পদ্ধতি না মানা ইত্যাদি যুক্তি দেখানো হয়েছে। তাঁকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, এ অভিযোগ তুলে সুমনা চৌধুরী আদালতের দারস্থ হচ্ছেন বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *