শিক্ষা সেতু অ্যাপ ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে শরিফনগর এলপি স্কুলে অভিভাবক সভা

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ ফেব্রুয়ারি : শিক্ষা সেতু অ্যাপ ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে শরিফনগর এলপি স্কুলে অভিভাবক সভা ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত স্কুলমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হল শনিবার।এদিন স্থানীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে শনিবার ১১০ নং শরিফনগর এলপি স্কুল প্রাঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন। সভা শুরুতেই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা মমতা রক্ষিত উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি স্কুলের বর্তমান শিক্ষা পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে “শিক্ষা সেতু” অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনিক উপস্থিতি প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনও ছাত্রছাত্রী একটানা পাঁচদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার অভিভাবককে ডেকে বিষয়টি অবগত করানোর নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রী দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে উপর-মহলের নির্দেশ অনুযায়ী তার নাম শিক্ষা সেতু অ্যাপ থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে তিনি অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান—যাতে তাঁরা নিজেদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠান এবং স্কুল ব্যাগের ভিতরে প্রয়োজনীয় বই, খাতা, পেন্সিলসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী সঠিকভাবে রয়েছে কিনা তা প্রতিদিন খতিয়ে দেখেন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।এরপর সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্য মহি উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “শিক্ষা ছাড়া কোনও এলাকা, সমাজ বা জাতির প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষাই একটি সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার প্রসারে শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নয়, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী, স্কুল পরিচালন সমিতি এবং এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালন অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সমাজের সর্বত্র প্রকৃত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে এবং এর মাধ্যমে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ সাধিত হবে।পরিশেষে তিনি অভিভাবক ও উপস্থিত বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র আহ্বান জানান—যাতে এলাকার সকল ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত স্কুলে যায় এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি পরামর্শ দেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে মাঝে মাঝে সবাইকে স্কুল পরিদর্শনে আসা উচিত। যদি কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাজে ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়, তাহলে তা স্কুল সভাপতি কিংবা প্রধান শিক্ষিকাকে অবগত করার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

এদিনের সভায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বক্তব্য রাখেন স্কুল সভাপতি কামাল উদ্দিন, শিক্ষিকা অনুসূয়া গুপ্তা, শিক্ষিকা জয়শ্রী নাথ, শিক্ষক জামিল উদ্দিন, স্কুল মেম্বার মছনু মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, অনিতা নমঃশূদ্র সহ আরও অনেকে। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার প্রতি সচেতনতা, অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।সবশেষে সভার সভাপতি কামাল উদ্দিন উপস্থিত সকলকে পুনরায় আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *